এডভোকেট মনির হোসেন রানা: সাম্প্রতিক সময়ে হয়ে যাওয়া ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসু নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাত্তা না পাওয়া পরাজয় এবং তৎপরবর্তি সময়ে বিএনপি’র দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কাছ থেকে ‘ছাত্র রাজনীতি আর জাতীয় রাজনীতি এক নয়’ জাতীয় কথা শুনে কিছুটা থমকে গিয়েছি। বার বার খুঁজে খুঁজে দেখলাম আমি ভুল দেখছি নাতো! না, একদম ঠিক ! দেখিছি।
বিএনপির সবচেয়ে দায়িত্বশীল, মার্জিত, রুচিবান, পড়াশুনা করা একজন প্রিয় নেতা এ কথা বলেছেন।
বিনয়ের সাথে পরম শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই-
না, লিডার আপনার যুক্তি মানতে পারলাম না।
একটুখানি পেছনে ফিরে যাই-
নব্বইয়ের ছাত্রগন অভ্যুত্থানে এরশাদের পতন হয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে গ্ৰহনযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো ১৯৯১ সালে। তৎকালীন সময়ের লেখক, বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গবেষক, সুশীল সমাজের সকলের সব ভবিষ্যৎবানী ভুল প্রমান করে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলো।
এক অভাবনীয় মেরাকল বিজয় নিয়ে গবেষনায় জানা গেল ১৯৯১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পিছনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর ছিল ১৯৯০ এর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ব্যাপক বিজয়।
শুধুমাত্র ডাকসু নয় ঐ সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের অভাবনীয় বিজয় এবং এই বিজয়ী ছাত্রনেতাদের লোভ লালসাহীন ডু-অর-ডাই প্রচারনা, তাদের Smart এ্যাপরোজ এবং তৎকালীন সময়ে অপেক্ষাকৃত এগিয়ে থাকা তরুণ প্রজন্ম বিএনপিকে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী করতে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর ছিল।
আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমি দেখেছি ঐ সময়ে ছাত্রদলের নেতৃত্বের চলনে বলনে, পোশাক পরিচ্ছদে এগিয়ে থাকা ছাত্রনেতারা তরুন প্রজন্মের ভাবনাকে ধারন করে এগিয়ে যায়। শুধুমাত্র ছাত্র রাজনীতি নয় জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব ছিল শতভাগ। বলতে দ্বিধা নেই সেই সময়ে গড়ে উঠা ছাত্র নেতৃত্বই আজ বিএনপির প্রান ভোমরা।
আজকের ছাত্র নেতৃত্ব যদি জেন-জি প্রজন্মের ভাবনা গুলো ধারন করে তাদের ভাবনার আলোকে বিএনপির নিজস্ব কর্মসূচীর পাশাপাশি জেন-জি প্রজন্মকে আশাবাদী করে না তুলতে পারে তবে ডাকসু, জাকসু, চাকসু এবং রাকসুর জোয়ারে হাওয়া লাগবে পালে! মনে রাখতে হবে জনমত পাল্টে যায়।মুসলিমলীগ, আওয়ামীলীগ গ্যাছে। এবার যেন আমরা টার্গেট না হয়ে যাই ।
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীট কোর্ট।
সভাপতি, প্রবাসী কল্যাণ আইনজীবী সমিতি
