ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট: বাগেরহাটের দেলভাষানী খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে প্রভাবশালী মহলের অনুরোধে অভিযান স্থগিত করেছে প্রশাসন, যা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।..
খাল উদ্ধারে প্রশাসনের এমন পিছুটান স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালীরা সরকারি খাল দখল করে দীর্ঘ সময় ধরে মাছ চাষ করে আসছে এবং স্থানীয়দের চলাচলের পথও রুদ্ধ করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেলসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির সামনে দখলদারদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সাধারণ মানুষের মনে ভীতি ও হতাশা তৈরি করেছে। তারা জানান, খাল কাটার খবর শুনে এলাকাবাসী আনন্দিত হলেও, শেষ মুহূর্তে কোনো কাজ না হওয়ায় তারা প্রতারিত বোধ করছেন। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দখলদারদের আরও উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। এদিকে দখলদার সেলিম কাজী খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন, যা স্থানীয় পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটির প্রেক্ষিতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, মূলত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৌশলগত কারণে দখলদারদের প্রার্থনার প্রেক্ষিতে দুই সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর খালটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ এটিকে সরকারের চলমান উচ্ছেদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মাছ তুলে নেওয়ার সুযোগ দিয়ে মানবিক কারণেই এই সময় বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রশাসনের এমন ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি খাল দখল করে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনকারীদের ছাড় দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের এই দোদুল্যমান অবস্থান জনস্বার্থের চেয়ে প্রভাবশালী স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
দেলভাষানী খাল উদ্ধারের এই অভিযান স্থগিতের ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য নির্ধারিত দিনে এসেও দখলদারদের সময় দেওয়ার এই সংস্কৃতি সরকারি খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের চলমান প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যদি দুই সপ্তাহ পর পুনরায় অভিযান পরিচালিত না হয়, তবে জনমনে প্রশাসনের ওপর আস্থা সংকটের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনকে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় জনস্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
