বন্ধ হলো কারিগরি বোর্ডের মেডিকেল টেকনোলজি ও নার্সিং কোর্স

ডেস্ক রিপোর্ট: কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নয়, এখন থেকে শুধু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনেই পরিচালিত হবে মেডিকেল টেকনোলজি এবং নার্সিং কোর্স। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উভয় মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ কোর্স পরিচালিত হয়ে এলেও অবশেষে বন্ধ হলো কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত কোর্স।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি-২ শাখা থেকে গত ৪ নভেম্বর প্রকাশিত এক গেজেটে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আইন-২০১৮ এ তফসিল-১ এর ক্রমিক নং ১-এর দফা ‘ঞ’এবং ক্রমিক নং ৪-এর দফা ‘ক,ঘ’a বিলুপ্ত করা হয়। বোর্ডের আইন-২০১৮ এর ধারা ২৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে উল্লেখিত দফা সংশোধন করা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, কার্যবিধি অনুযায়ী মেডিকেল টেকনোলজি ও নার্সিং সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত। ১৯৬২ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স এবং বাংলাদেশ নার্সিং কোর্স পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু ২০০৫ সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স পরিচালনা শুরু করলে জটিলতা সৃষ্টি হয়। গত ১৫ বছর ধরে এ নিয়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বান্দ্বিক অবস্থা বিরাজমান ছিল।

জটিলতা নিরসনে ২০০৭ সালে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্টের আওতায় পরিচালনার সুপারিশ করে। কিন্তু এ সুপারিশ উপেক্ষা করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কোর্স পরিচালনা অব্যাহত রাখায় জটিলতা বৃদ্ধি পায়।

সূত্র আরও বলছে, এ জটিল পরিস্থিতিতে ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় তারা হাইকোর্টে মামলা করেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নেয়া হলে সর্বোচ্চ আদালত ২০১৬ সালের নভেম্বরে ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্ট বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যে ২০১২ সাল থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আবারও নার্সিং কোর্স পরিচালনা শুরু করে। এতে জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর গত বছরের নভেম্বর মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ড, নার্সিং কাউন্সিল, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ঊর্ধ্বতন আট কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠিত হয়। কমিটি গত বছরের ২ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দাখিল ও প্রতিবেদন সুপারিশ করে।

সুপারিশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সিভিল পিটিশন লিভ টু আপিল (২১৪৩/২০১৬) মামলার নির্দেশনা মোতাবেক মেডিকেল টেকনোলজি ও নার্সিং কোর্স সংক্রান্ত সব শিক্ষা কার্যক্রম ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্টের আওতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হবে।

পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মেডিকেল টেকনোলজি ও নার্সিং কোর্স বন্ধকরণ এবং বোর্ডের আইন-২০১৮ সংশোধনের সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে। একইসঙ্গে ওই আইনের তফসিলের ১-এর ক্রমিক নং ১(ঞ) এবং ৪ সহ উক্ত তফসিলে উল্লেখিত মেডিকেল টেকনোলজি ও নার্সিং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিধানাবলি বিলুপ্ত/সংশোধন করে ৩০ দিনের মধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগকে কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয় প্রতিবেদনে।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশ এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ গড়িমসি শুরু করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়াধীন প্রতিষ্ঠান থেকে পাশকৃত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

অবশেষে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন ২০১৮-এর মেডিকেল টেকনোলজি ও নার্সিং কোর্স পরিচালনা সংক্রান্ত তফসিল বিলুপ্তি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব মো. সেলিম মোল্লা বলেন, শুধু এ সংক্রান্ত আইনের তফসিল সংশোধন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। সর্বোচ্চ আদালত এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *