প্রতিটি কর্মীকে এক একজন শেখ হাসিনা হতে হবে : নবাবগঞ্জে এসএম কামাল

মো. নাজমুল হোসেন, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালে সাহসী নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ তাদের জীবন বাজি রেখে মুক্তি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হয়। এই মার্চ মাসেই যুদ্ধ হয়। স্বাধীনতার ৫২ বছর পর আমাদের আরেকটি যুদ্ধের এসেছে। এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিবেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা৷ এই যুদ্ধ বিএনপির অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, দেশের শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধে বিজয়ী হতে হলে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীকে এক একজন শেখ হাসিনা হতে হবে।  শনিবার (১১ মার্চ) ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশের প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল এ আহবান জানান।
দক্ষিণ বঙ্গের নেতা কামাল বলেন, ১৪ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতায় নেই। তাই মাঝে মাঝে আমরা আছি জানান দিতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়। আমরা দীপ্ত কন্ঠে বলতে চাই আওয়ামী লীগ আপনাদের এমন সুযোগ আর দিবে না। আপনারা হুংকার দিয়েছিলেন ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বরে পর থেকে দেশ খালেদা জিয়ার কথায় চলবে। আওয়ামী লীগের এক ধমকে আপনাদের গরুর মাঠে সমাবেশ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটনা সম্ভব  না। আন্দোলন কাকে বলে সেটা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিখুন। ২০০৮ সালে এক আন্দোলনে গদি থেকে খালেদা জিয়া নেমে গিয়েছিলো। তার চাকরানী ফাতেমা ছাড়া আর কেউ সাথে ছিলো না, সবাই পালিয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার পিছনে হাজার হাজার নেতা কর্মী আছে৷ এখনো সময় আছে সাবধান হয়ে যান।
শান্তি সমাবেশে ঢাকা-২০ আসনের সাংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে কামাল বলেন, আজকের এই শান্তি সমাবেশ বিএনপির অগ্নি সন্ত্রাস, আন্দলোনের নামে জ্বালাও পুড়াও, দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, বিএনপি দেশকে অন্ধাকারের দিকে নিয়ে যেতে চায়। যেনো তারেক জিয়া পুনরায় অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম করতে পারে। মনে রাখবেন শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে আছেন কোনোভাবেই বাংলাদেশে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম করতে দেওয়া হবে না।
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য সাহাবদ্দিন ফরাজী, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুর রহমান, জাতীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন মিয়া, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ভুইয়া কিসমত, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. আরিফুর রহমান শিকদার, দোহারের নুরুল হক বেপারী। অন্যদের মধ্যে প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. সাফিল উদ্দিন মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদার, ইউপি চেয়ারম্যান আলিমুর রহমান খান পিয়ারা, এম এ বারী বাবুল মোল্লা, রেশমা আক্তারসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিকাল তিনটা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের এ শান্তি সমাবেশ শুরু হয়। সভা শুরুর পর পরই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে হাজার হাজার নেতা কর্মীরা সভাস্থলে আসতে শুরু করে। মুহূর্তেই সভাস্থল আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকে ভরে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *