নবাবগঞ্জে নামধারী তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঢাকার নবাবগঞ্জে নামধারী  তিন ভুঁঁই‌ফোড় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।  শনিবার দুপুরে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার দোহার-নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক নববাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল হোসেন অন্তর বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, নয়নশ্রী ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের মৃত আকবর খানের ছেলে ইউসুফ খান, তার ছেলে সেন্টু, তুইতাল গ্রামের মৃত সাইজদ্দিনের ছেলে আহমেদ লিটন রানা, আলালপুর গ্রামের মৃত মুসলেম উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন, আগলা ইউনিয়নের কাজিহাটি গ্রামের শাহিনুজ্জামান শাহিন সহ আরো অজ্ঞাত।

অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, সাংবাদিক নাজমুল গত ১২মার্চ বিকালে সাপ্তাহিক নববাংলা পত্রিকায় নবাবগঞ্জ উপজেলার শান্তিনগর এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার সংবাদ প্রকাশ করে। পরে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী ইউসুফ খান ও তার ছেলে সেন্টু ক্ষিপ্ত হয়ে মাটি কাটার সাথে জড়িত ভুইফোড় সাংবাদিক আহমেদ লিটন রানার মাধ্যমে অবৈধ অনলাইন পেইজ ইউরো বাংলা, ঢাকা নিউজপ্রেসে, আলমগীর জিবিএম, আগামীর সময় অনলাইন পোর্টালে সাংবাদিক নাজমুলের নামে মিথ্যা চাদা দাবির সংবাদ প্রকাশ করে।

এবিষয়ে অভিযোগকারী সাংবাদিক নাজমুল বলেন, আমি দীর্ঘিদিন ধরে সুনামের সাথে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত। শান্তিনগর এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী ইউসুফের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করি। কিন্তু ভুইফোড় সাংবাদিক রানা ডিসি অফিস থেকে মাটি কাটার পারমিশন আনার কথা বলে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী ইউসুফের কাছ থেকে টাকা নেন। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেছি। যেহেতু সংবাদ প্রকাশ করার ফলে ইউসুফ অবৈধ ভাবে মাটি কাটতে পারবে না ভেবে রানার যোগসাজশে আহমেদ লিটন রানা, আলমগীর জীবিএম ও শাহিনুজ্জামান আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে। আমি এই মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে এই ভুইফোড়  সাংবাদিকদের শাস্তি দাবি করছি।

মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়ে নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, কিছুই দিন ধরে ভুইফোড় সাংবাদিক আহমেদ লিটন রানা, আলমগীর জীবিএম ও শাহিনুজ্জামান সহ আরো কিছু লোকের যোগসাজশে জেলা প্রশসকের নাম ভাঙিয়ে (ডিসি) তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মুদি দোকান, ফার্মিসী, খাবারের দোকানে গিয়ে বিভিন্ন অংকের চাদা আদায় করছে। ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ভোক্তভোগীরা নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। ইব্রাহিম খলিল আরোও বলেন, তারা ভুইফোড় কিছু সংবাদ মাধ্যমের নাম ব্যবহার করে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের মূল ধারার সাংবাদিকদের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। তাই যতদ্রুত সম্ভব এসকল ভুইফোড় সাংবাদিকদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছি।

এবিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি তিন সাংবাদিক সহ ৫জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

এবিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনিসুর রহমান বলেন, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নে মাটি কাটার কোন অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যারা ডিসি অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ ভাবে মাটি কাটছে ও সাধারণ মানুষদের সাথে প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *