কাজী জোবায়ের আহমেদ : ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় গত ১৫ দিন ধরে করোনা ভাইরাসের হটস্পটে পরিণত হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই এসব এলাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। নবাবগঞ্জ উপজেলায় গত ১০ দিনে ২১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সেই সাথে দোহারে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৮ জন। দুই উপজেলাতেই দুই হাজারের বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে । তবে সুস্থ্যতার হার বেশি।
দোহারে তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭জন। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সূত্র মতে, এক সপ্তাহে ৪০১ জনের নমুনা পরীক্ষায় এখানে ১৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে মারা গেছেন দুজন। দোহারে ১০ দিনের করোনা সংক্রমণের হার ৪৯% এবং নবাবগঞ্জে প্রায় ৫৩%।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই দুই উপজেলা থেকে রোগীদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। দোহার-নবাবগঞ্জে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ থাকলেও শ্বাসকষ্টের জটিলতা নিরাময়ে নেই হাইফ্লো ক্যানোলা। এতে অক্সিজেন লেভেল ২-৩ মাত্রায় সরবরাহ করা গেলেও তীব্র শ্বাসকষ্টের জন্য হাইফ্লো ক্যানোলা না থাকায় রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ধীরে ধীরে রেড জোনে পরিণত হচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জ। উপজেলা প্রশাসন, দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সেনাবাহিনী, বিজিবি’র কঠোর টহল ও নজরদারি সত্ত্বেও জনগণের অসচেতনতার কারণে পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
দুই উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন যদি মানুষ সচেতন না হন, নিজেরা স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলেন তাহলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। এদিকে দিনমজুররা বলছেন সরকারি সহায়তা না পেলে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে বাধ্য হয়েই তাদের রাস্তায় নামতে হবে।
দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখনো রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সবক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্নয় করে কাজ করা হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে সকলের সচেতনতা জরুরি।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লকডাউন বাস্তবায়নে ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মানুষ সচেতন না হলে করোনা প্রতিরোধ সম্ভব নয়, তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
