দোহারে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতি‌বেদক: ঢাকার দোহারে গৃহবধূ শিখা আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী রুহুল আমিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া লাশ গুমে সহায়তা করায় রুহুল আমিনের বাবা মনোয়ার হোসেন, মা আছমা বেগম ও ভাই মারুফ খানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের সবাইকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার ১ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর দীপক কুমার দেব এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৬ মে রুহুল আমিনের সঙ্গে শিখার বিয়ে হয়। ওই বছরের ৩ আগস্ট বিভিন্ন মালামাল দিয়ে তাকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠানো হয়। সেসব মালামাল দেখে মন ভরেনি শিখার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের। এজন্য তারা শিখার মা রুনু আক্তারের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন। পরে রুনু আক্তার তার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরদিন স্বামীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি আসেন শিখা। রাতে মায়ের সঙ্গে ফোনে অনেকক্ষণ কথা হয়। পরে ৬ আগস্ট শিখার বাবা তার শ্বশুরবাড়ি যান। তখন শাশুড়ি আছমা বেগম তাকে জানান, শিখাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
রুহুল তার শ্বশুরকে জানান, রাতে শিখার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। তখন শিখার মায়ের সন্দেহ হয়, শ্বশুর বাড়ির লোকজন হয়ত তাকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে। পরে রুহুল আমিনের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ৬ আগস্ট বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শিখার লাশ পায় পরিবার। এসময় শিখার গলায় কলসি বাঁধা ছিল।
এ ঘটনায় ৬ আগস্ট দোহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন শিখার মা রুনু আক্তার। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দোহার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াসিন মুন্সী। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *