দোহারে শখের বসে পদ্মায় ইলিশ ধরতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো ইস্রাফিল

ইলিশ ধরতে গিয়ে ট্রলার ডুবে নিহতর স্বজনদের আহাজারি। ইনসেটে ইস্রাফিল।

দোহারে পদ্মা নদীতে ইলিশ ধরতে গিয়ে ট্রলার ডুবে নিখোঁজের ৩ দিন পর লাশ হয়ে ফিরলো দর্জি ইস্রাফিল (৩৫)। গত শনিবার সকাল ৭টায় উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মহামাইনকা গ্রামের নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে নারিশা পশ্চিমচর এলাকার মৃত জলিল ভূইঁয়ার ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মহাআনন্দে ইলিশ শিকারের জন্য জাল, নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন বহু জেলে। ইলিশ শিকারে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরার কথা শুনে শখের বসে দর্জির কাজ ফেলে তিন বন্ধু সালাম, এমারত ও বাবুলকে নিয়ে পদ্মা নদীতে ইলিশ ধরতে যায় ইস্রাফিল। শখই যেন কাল হয়ে দাড়ালো তার। পদ্মার প্রবল ¯্রােতে ট্রলার ডুবে হারিয়ে যায় ইস্রাফিল। তিন বন্ধু সালাম, এমারত ও বাবুল সাতার কেঁটে তীরে ফিরলেও প্রচন্ড ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয় ইস্রাফিল।
বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ইস্রাফিলকে খুঁজে না পেয়ে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করে চলে যায়। এরপর থেকে দিন-রাত পদ্মা তীরে খোঁজাখুজি করতে থাকে তার স্বজনরা। এ ঘটনার তিন দিন পর গতকাল শনিবার সকালে মহামাইনকা গ্রামে নদীর তীরে ভাসমান মরদেহ ভেসে ওঠার সংবাদ পেয়ে স্বজনরা ছুটে যায়। স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ সনাক্ত করে নারিশা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে নিয়ে আসে।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য কামাল হোসেন ডিপটি জানান, নিহত ইস্রাফিলের ৬ ভাই। ইস্রাফিল তাদের মধ্যে দ্বিতীয়। সে অত্যন্ত ভাল মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বটতলা বাজারে সে দর্জির কাজ করতো। তার এমন মৃত্যুতে এলাকার অধিকাংশ মানুষ শোকাহত।
নিহতের মা আজুফা বেগম বলেন, আমি মনে করি এটি একটি দুর্ঘটনা। এ দুর্ঘটনায় আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। আমার কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই। আমি আমার ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন।
শাইন পুকুর তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক মো. আবুল হোসেন জানান, মরদেহ ভেসে ওঠার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে সাথে সাথে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়। তিন দিন নদীতে ডুবে থাকায় পচন ধরে ফুলে ফেঁপে যায় লাশ। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নিহতের মরদেহ নারিশা হোসাইনিয়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *