দোহারে রেজিয়া ক্লিনিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে চিকিৎসা সেবা, রোগীদের ভোগান্তি

কাজী জোবায়ের আহমেদ: ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া রেজিয়া ক্লিনিক জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে  অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিনের পর দিন চলছে রোগীদের চিকিৎসা সেবা। দীর্ঘদিনের এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ময়লা আবর্জনা ও ক্লিনিকের বর্জ্য পরে আছে ভিতরেই।
শুধু তাই নয় অপারেশন থিয়েটারের রুমের অবস্থা যেন আরও ভয়াবহ। ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় আপারেশনের অনুপযোগী রুমেই চলছে রোগীদের অপারেশন। যেন দেখার কেই নেই।
রোববার ১৮ (অক্টোরব) সন্ধার পর ক্লিনিকে প্রবেশ করে আরও কয়েকটি রুমে ঢুকতেই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে রোগীদের অভিযোগের যেন শেষ নেই। ক্লিনিকের দ্বিতীয় তলায় ২০৮ নং কেবিনে প্রবেশের পর দেখা যায় ভেতরে অক্সিজেনের পরিমাণ খুবই কম। একদিনের এক শিশুকে চিকিৎসা দিতে আসা তার অভিভাবকরা জানান, এই ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসলে রোগীর সাথে আসা সুস্থ্ ব্যক্তিরা আরও অসুস্থ হয়ে পরবে।
দোহার ঘাটা এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ওই রোগীর আত্মীয় আল আমিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, এই ক্লিনিকের কেবিনের ভেতরে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় এখানে এই একদিনের বাচ্চাকে কিভাবে চিকিৎসা দেব। এছাড়া ভালো সেবা না দিয়ে কেবিন ভাড়া ও অন্যান্য সেবার নাবে প্রতিদিন বিলের হিসাব বাড়তে থাকে। এসময় তিনি প্রতিবেদকের হাতে দুই দিনে কেবিন ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ বাবদ ৪৬০০ টাকার একটি বিলের কপি দেখান।
এদিকে পাশের কেবিনে আরও এক বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনে এগিয়ে গেলে বাচ্চাটির মা বলেন, দেখেন ভাই ! আমার বাচ্চাকে সেলাইন লাগিয়ে দিয়ে গেছে অনেক আগে, এখন সেলাইন শেষ হয়ে গেছে নার্সদের রুমে বারাবার গিয়েও কাউকে পেলাম না। এটা কেমন ক্লিনিক। এরা সেবার নামে গরীব মানুষের উপর জুলুম করছে। প্রশাসন এসব ক্লিনিক বন্ধ করে দিলে দোহারের মানুষ সেবা নিতে এসে আর প্রতারিত হবে না। কিছুক্ষন পর দুজন নার্স এসে বলেন, এত ডাকাডাকির কি আছে আমরা অন্য কাজে নিচে গিয়েছিলাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ ক্লিনিকের এক কর্মচারী প্রতিবেদককে বলেন, কি আর করবো ভাই। এখানে এই পরিবেশে থাকতে আমাদেরও ভালো লাগে না। কিন্তু কি করবো, পেটের দায়ে কাজ করি।
পরেরদিন সকালে আশেপাশের বেশকিছু ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রেজিয়া ক্লিনিকে যারা একবার সেবা নিতে আসেন তারা অনেকেই এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিন্মমানের সেবার কারনে তারা আর ২য় বার এখানে আসেন না।
এবিষয়ে রেজিয়া ক্লিনিকের পরিচালক জানান, পুরাতন ক্লিনিক হিসেবে একটু সমস্যা আছে। এটি ঠিক হয়ে যাবে। বৈধ কাগজের বিষয়ে বলেন ,২০১৮ সালের পরে আর নবায়ন হয়নি তবে আবেদন করা হয়েছে। নিন্মমানের সেবা দিয়ে প্রতি কেবিনে ১ হাজার টাকা ভাড়া নেয়ার বিষয়ে বলেন আমরা ৫শত টাকা ভাড়া নেই।
দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জসিম উদ্দিন নববাংলাকে জানান, স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কেই অনিয়ম বা রোগীদের ভোগান্তি সৃষ্টি করতে পারবে না। রেজিয়া ক্লিনিক যদি অনিয়ম করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *