নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা জেলা মহিলা দলের অধীন দোহার উপজেলা মহিলা দলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যেই সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কয়েকজন নেত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বুধবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে তারা পদত্যাগ করেন। এবং পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে । কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ, সমালোচনা এবং পদত্যাগের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে ।
ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি শামিমা রাহিম শিলা ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খন্দকারের স্বাক্ষরে ৩০ জুন নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয় । কমিটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা প্রকাশ্যে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে শুরু করেন।
দোহার উপজেলা মহিলা দলের নবনির্বাচিত সভাপতি মিনু আক্তার, সিনিয়র সহ-সভাপতি রুবিনা রাজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক ঝুনু বেগম পদত্যাগের ঘোষণা দেন । একই সঙ্গে দোহার পৌর মহিলা দলের সভাপতি জেসমিন আক্তার, সিনিয়র সহ-সভাপতি হিমু আক্তার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক উর্মী আক্তারও পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন ।

সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেত্রীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ও অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, কমিটি গঠনে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ।
দোহার উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মিনু আক্তার অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
দোহার উপজেলা মহিলা দলের সদ্য সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রুবিনা রাজ বলেন, কমিটি কীভাবে হয়েছে, তা তৃণমূলের কেউ জানে না । এটি গ্রহণযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়নি । তাই আমরা পদত্যাগ করেছি ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেত্রীরা ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি করেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সংগঠন পরিচালনায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি শামিমা রাহিম শিলা ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খন্দকারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি|
