মো. কামাল হোসেন : ঢাকার দোহার উপজেলার প্রানকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জয়পাড়া । প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসে জয়পাড়া। জয়পাড়া বাজারের চৌরাস্তা থেকে রতন চত্বর পর্যন্ত রাস্তাটির ফুটপাথ পুরোটাই থাকে হকারদের দখলে। ফলে সাধারণ মানুষরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হকাররা রাস্তার অধিকাংশ অংশ জুড়ে বিক্রি করে তাদের মালামাল। প্রতিদিনই হকারদের মালামাল কিনতে রাস্তার মধ্যেই ভীড় করে অসংখ্য ক্রেতা। ফলে রাস্তায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। রাস্তায় ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভোগান্তি পোহাতে হয় হাজার হাজার মানুষকে। বিভিন্ন সময় দোহার উপজেলা প্রশাসন হকারদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করলেও থেমে নেই রাস্তা দখল করে তাদের ব্যবসা। প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তা দখল করে চলে হকারদের ব্যবসা।

রাস্তা দখল করে ব্রাশ, টুপি, রুমাল, মাস্ক ব্যবসা পরিচালনা করে এমন এক হকার মো. শরিফ। তিনি জানান,” আমরা ঘুুরে ঘুরে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে এগুলো বিক্রি করি। এ রাস্তাটি দিয়ে বেশি লোকজন যাতায়াত করে এ জন্য আমরা এখানে বেশি থাকি।”

আরেক হকার জসিমের কাছে রাস্তা দখল করে ব্যবসা করার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা এগুলো বিক্রি করেই সংসার চালাই। এখানে বেচা-কেনা ভালো হয়। তাই এখানেই বেশি থাকি আমরা।

রাস্তা দখল করে ফল বিক্রি করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান,” আমরা প্রতিদিনই এখানে বসি। আমরা রাস্তা দখল করি না। অনেক সময় গাড়ী বেশি আসার কারণে যানজট হয়। আমরা রাস্তার সাইডেই বেশি থাকি।”

রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণ জানতে চাইলে ইজিবাইক চালক লোকমান জানান, “হকারদের কারণেই জয়পাড়ার রাস্তায় বেশি যানজট হয়। হকাররা রাস্তার অধিকাংশ অংশ জুড়েই দখল করে রাখে এবং ক্রেতা সমাগমের কারণে যানজট বেশি হয়।”

পথচারী মো. রফিকুলও অভিযোগের তীর ছুড়ে দিলেন হকারদের দিকে তিনি বলেন, “হকাররা প্রতিদিনই রাস্তাটি দখল করে রাখেন। এছাড়াও এ রাস্তাটি চওড়া কম থাকার কারণেও যানজট বেশি হয়ে থাকে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএফএম ফিরোজ মাহমুদ নববাংলা কে জানান, “যারা রাস্তা দখল করে ব্যবসা-বানিজ্য করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অতি দ্রুতই হকারদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করবে দোহার উপজেলা প্রশাসন যানজট মুক্ত করবে দোহারের প্রানকেন্দ্র জয়পাড়াকে এমনটাই প্রত্যশা সংশ্লিষ্ট সকলের।