দোহারের মাহমুদপুরে ফসলি জমি কেটে সাবার

কাজী জোবায়ের আহমেদঃ  ঢাকার দোহারের মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সরকারি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ করে ফসলি জমি কেটে সাবার করছে ভূমি খেকোরা। অফুরন্ত ফসলি জমি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী পিবিসি ইটভাটায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল উৎপাদন, জমি হারাচ্ছে উর্বরতা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটি কাটার প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মাহেন্দ্র চলাচল করায় পাশে থাকা অন্যান্য জমির চরম ক্ষতি হচ্ছে। ধুলায় অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে চারিদিক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কম দামে ফসজি জমির মাটি কিনে পাশের পিবিসি নামে একটি ইট ভাটায় নেন আয়নাল পাটাদার ও মনির পত্তনদারসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে প্রতি তরা অল্প টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে মাটি কিনে ভেকু দিয়ে কেটে বিক্রি করেন।
পাশের জমিতে থাকা কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, আমাদেরএই জমির উপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নিয়ে মাটি নেয়া হচ্ছে। অনেককে আবার টাকা দিয়েও নিয়েছে। ক্ষমতার দেখিয়ে আমাদের ক্ষতি করে এই ব্যবসা চারিয়ে যাচ্ছে।
সরজামিনে গিয়ে আরও দেখা যায়, উপরের জমির অংশ অর্থাৎ টপ সয়েলের অংশ কেটে নেয়ায় জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। আইনে বলা রয়েছে কোন ভাবেই ফসলি জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না।

এই আইনের ধারার ৪(১), ৪(২) অথবা অন্য কোন ধারার বর্ণিত বিধান কোন ব্যক্তি অমান্য করলে তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড বা তিন লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অথচ আইন অমান্য করেই প্রকাশ্যে চলছে ফসলি জমি কাটার মহাৎসব। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায় একই এলাকায় ফসলি জমি ধ্বংশে কার্যক্রম চালানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণীর মাটি খেঁকোরা। এবিষয়ে জানতে পিবিসি ইট ভাটায় গেলে মালিক পক্ষের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবাশে^র আলম জানান, অনুমতি ছাড়া ফসলি জমি কেটে ইট ভাটায় নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন ঘটনার সাথে জরিত থাকেন তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *