দেশের সকল দুর্যোগেই আমাকে পাশে পাবেন নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণকালে.. সালমা ইসলাম

কাজী সোহেল, নবাবগঞ্জ থেকে. কয়েকদিন যাবত ঢাকার দোহার নবাবগঞ্জে শীতের তীব্রতা বেড়েছে বিষয়টি জানার পর ঢাকা-১ আসন (দোহার-নবাবগঞ্জের) সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম তার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন থেকে এ অঞ্চলের জন্য প্রায় ৩০ সহস্রাধিক শীতবস্ত্র কম্বর নিয়ে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও এ অঞ্চলের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আজ শুক্রবার ১৩ডিসেম্বর সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা, চূড়াইন, গালিমপুর, বাহ্রা ও বক্সনগর ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এসব শীতবস্ত্র কম্বর বিতরণ করেন। আরও টানা পাঁচদিন দোহার-নবাবগঞ্জে বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব কম্বল বিতরণ করবেন সালমা ইসলাম।

শুক্রবার দুপুর ১২টায় উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের বর্ধনপাড়া মাঠে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বর বিতরণ কালে সালমা ইসলাম বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের যে কোন দুর্যোগেই আমি ও আমার পরিবার আপনাদের পাশে দাঁড়ায় আগামীতেও দাঁড়াবে। বিগত ১৭টি বছর ধরে আমি আপনাদের পাশে আছি, শুধু শীতবস্ত্রই নয় ঈদের সময় ঈদ সামগ্রী নিয়েও আমি হাজির হই আপনাদের মাঝে। হিন্দু ভাইদের পূজার সময় আর্থিক সাহায্য এবং খ্রিষ্টানদের বড় দিনেও আমি তাদের পাশে দাঁড়াই। এছাড়াও এই অঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভাট, নদী ভাঙ্গা রোধ সহ সকল ধরনের উন্নয়ন আমি করেছি। আগামীতেও এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাল্লা।
সালমা ইসলাম বলেন, আপনাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে নিজেরাও পরিশ্রম করুন। তাহলে সমাজ থেকে অভাব দূর হবে। হতদরিদ্র গরিব মানুষের কল্যাণে হয়ে কাজ করতে হবে। তাদের কাছে যেতে হবে। তবেই আমরা জনসাধারণের মনে স্থান করে নিতে পারব। পৌঁছাতে পারব আমাদের মূল লক্ষ্যে। এ সমাজে অসংখ্য দরিদ্র-অসহায় মানুষ বাস করেন। তাদের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, সুখে ও দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে তবেই দরিদ্র জনসাধারণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব পাবে। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, আপনার সন্তানকে শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সম্ভব হলে তাদের হাতে-কলমে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে আপনার সন্তান আগামী দিনে রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসেবে ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। তখন সে দেশের উন্নয়নে অংশ নেবে। তবেই সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও হতাশামুক্ত একটি নিরাপদ দেশ জাতি উপহার পাবে। ঘরে বসে না থেকে নারীদের পশু পালন, সেলাই প্রশিক্ষণ ও সবজি উৎপাদনে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই দেখবেন সংসার ও সমাজ থেকে অভাব-অনটন দূর হয়ে যাবে।

সালমা ইসলাম বলেন, আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের ও দেশের উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা। আসুন, আমরা দলীয় ভেদাভেদ ভুলে দল-মতের ঊর্ধ্বে এসে দুস্থ শীতার্তদের পাশে দাঁড়াই। তিনি জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জে অসচ্ছল মানুষের কথা চিন্তা করে বিগত ১৭ বছর ধরে শীতে কম্বল বিতরণ করে আসছি। যাতে শীতবস্ত্রের অভাবে আপনারা কেউ কষ্ট না পান।
আগলা ইউনিয়ন পরিষদে ফরিদা বেগম ৮০ নামের এক বৃদ্ধা কম্বর হাতে পেয়ে খুঁশি হয়ে বলেন, সালমা ইসলামই প্রতিবছর আমাদের কথা মনে রেখে শীতের সময় শীত বস্ত্র নিয়ে হাজির হন। দুইদিন যাবত অনেক ঠান্ডা পড়েছে কম্বরটা পেয়ে খুব ভালো হলো। শীতে ঘুম আসে না কম্বরটা গায় দিয়ে আজ ভালোভাবে ঘুমাতে পারবো। কথা হয় মুনছের আলী ৬০ নামের আরেক বৃদ্ধার সাথে তিনি জানান, এবছর দিয়ে টানা তিন বার আমি শীতবস্ত্র কম্বল পেলাম, সালমা ইসলাম ছাড়া আমাদের দেখার মতো আর কেউ নেই।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- মো. জুয়েল আহমেদ, মো. খলিলুর রহমান, এমএ মজিদ, মো. বোরহান, টিপু মিয়া, মো. মহসিন, ফরিদ মেম্বার, আনোয়ার মোড়ল, আবুল হাসেম, মো. বাহার বেপারী, সাহেদ ভূইয়া, মো. খাইরুল, তাজুল ইসলাম, মতিউর রহমান, মো. ফয়সাল, শুভ্র তালুকদার প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *