ঢাকা জেলা আ.লীগের ত্রী-বার্ষিকী সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে পনিরুজ্জামান তরুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের ত্রী-বার্ষিকী সম্মেলন আগামী ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের মাঠে (পুরনো বানিজ্য মেলার মাঠে) অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অতিথি হিসেবে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন জেলা কমিটি। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে দায়িত্বে থাকা পনিরুজ্জামান তরুন এবার জেলা সাধারন সম্পাদক পদ প্রার্থী হয়েছেন।

তবে এখন পর্যন্ত যারা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন তাদের মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন তরুন। নানা মহলে তাকে নিয়ে অনেক গুঞ্জন হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রবীন এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, রাজনীতিতে প্রায় অর্ধশত বর্ষ পার করেছি। অনেক নেতাদের দেখেছি। অনেক কমিটিতে জায়গাও হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জের তাই এখন কমিটিতে তরুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। আমি চাই এবার ঢাকা জেলা নির্বাচনে নতুন পুরান সমন্বয়ে জেলা কমিটি করা হোক। এক্ষেত্রে তরুন নেতা হিসেবে পরিরুজ্জামান তরুন পারফেক্ট।
ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও অনেক উত্তাল। বেশ কিছুুদিন ধরে লক্ষ করা যাচ্ছে তরুনকে নিয়ে ফেইজবুকে বিশেষ করে নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা আগামী দিনে পনিরুজ্জামান তরুনের নেতৃত্ব দেখার অপেক্ষায় আছেন।

জেলা সম্মেলন নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন খান লিখেছেন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী পনিরুজ্জামান তরুন ভাই। যেহেতু নবাবগঞ্জে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আর কেউ নাই, তাই নবাবগঞ্জের সকল নেতা কর্মীর উচিত পরিরুজ্জামান তরুনকে সমর্থন দেওয়া। তিনি আরো লিখেন, সকল ক্ষেত্রে একতা প্রয়োজন তা নয়তো সব কিছু হারাতে হবে। নবাবগঞ্জে সকল নেতা কর্মীদের মূল্যয়ন হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তার এই স্ট্যাটাসে শতাধিক কমেন্টস এবং অর্ধ শতাধিক শেয়ার হয়। কমেন্টসে বেশির ভাগ লোকই তরুনকে সমর্থন দিয়ে শুভ কামনা জানিয়েছেন।
জানা যায়, পরিরুজ্জামান তরুন কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া এলাকায় তিনি আওয়ামী লীগের একজন তুখোড় বক্তা ও ছাত্রনেতা তৈরির কারিগর হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়।

তরুনের জন্ম ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের কোমরগঞ্জ এলাকার আওয়ামী লীগ পরিবারে। ছোট বেলা থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। বড় ভাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়ার হাত ধরেই তার রাজনীতিতে আসা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী পনিরুজ্জামান তরুন বলেন, ১৯৮৮ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসি। ১৯৯১-৯২ সালে নবাবগঞ্জ থানা ছাত্রলীগ, ১৯৯৮ সালে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্মা সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি যদি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে পারি কথা দিচ্ছি ঝিমিয়ে পড়া জেলা আওয়ামী লীগকে নানা ধরনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চাঙ্গা করে তুলবো। শুধু তাই নয় সারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঢাকা জেলার রাজনীতি সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার রাজনীতি চাঙ্গা মানেই সারা বাংলাদেশ চাঙ্গা।

তিনি আরো বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জের। আমি কথা দিচ্ছি ঢাকা জেলায় যতগুলো আসন রয়েছে, আমি আমার শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *