নিজস্ব প্রতিবেদক : জয়বাংলা স্লোগানকে জাতীয় স্লোগান করার জন্য মহান জাতীয় সংসদে প্রস্তাব করা এবং জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে জয়বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের এমপি সালমান এফ রহমানকে দোহারবাসীর পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বড় মাঠে আয়োজিত জয়বাংলা উৎসবে তাকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এসময় সালমান এফ রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের বক্তব্য আমাদের স্বাধীনতার দলিল। যেটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ‘জয়বাংলা’ স্লোগানই হলো আমাদের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। এর জন্যই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।

এসময় এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলার। কিন্ত বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৭ মার্চের ভাষণ চালাতে পারত না মানুষ, তা বন্ধ করা হয়েছিল। আজ এই ভাষণ এবং জয়বাংলা স্লোগানের স্বীকৃতিই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। হাতে মাত্র ৩ বছর সময় পেয়েছেন। যখন কাজ শুরু করেছিলেন তখন তাকে হত্যা করা হয়।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ২১ বছর ক্ষমতায় ছিলেন তারা দেশের উন্নয়ন চায়নি। চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ গরিব রাষ্ট্র হিসেবেই থাকুক। কিন্ত আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। এখন আমাদের দেশের মাথাপিছু আয় ভারতের চেয়েও বেশি। তাই দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় রাখতে হবে।

সালমান এফ রহমান আরও বলেন, নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলাম দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা হবে বাংলাদেশের রোল মডেল। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। দুই উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। ইনশা আল্লাহ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের রোল মডেলে পরিণত হবে।

সাবেক আইজিআর খান মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাশ্বের আলম সাকিব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবুল, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা করম আলী, সহসভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ বেলাল, সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোজাহার বেপারী, বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদার, মুকসুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ হান্নান, নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, কুসুমহাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, নয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তৈয়বর রহমান তরুন, শোল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ভূঁইয়া কিসমত, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম শেখ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবণ্য ভূইয়াসহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১০ মার্চ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ফজলুর রহমান সংসদ সদস্য হিসেবে তার প্রথম বক্তব্যে ‘জয়বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার দাবি তুলেছিলেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় ‘জয়বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসাবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২রা মার্চ জাতীয় স্লোগান হিসেবে ‘জয়বাংলা’র প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন সরকার।
গণসংবর্ধনা শেষে দেশের নামিদামি শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জয়বাংলা উৎসব।
