নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে থাকা এক ব্যক্তির (৫৮) মৃত্যু হয়েছে, এমন সন্দেহে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ) দুপুর থেকে ওই গ্রামটি লকডাউন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার সকালে ঐ রোগীর স্বজনরা তাকে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসে। তার মুমূর্ষু অবস্থা দেখে আমরা তাকে রাজধানী ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রেফার্ করি। তিনি আরও বলেন, রোগী বেশ কয়েকদিন যাবত এক প্রবাসীর সাথে চলাফেরা করেছে এমন তথ্যও আমাদের কাছে রয়েছে সেই হিসেবে প্রাথমিক ভাবে করোনার উপসর্গ বলে আমাদের মনে হয়েছে। তবে পরিপূর্ণ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলো কি না, তা পরীক্ষা রিপোর্ট ছাড়া বলা যাবে না। তাই তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ এবং পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় রিক্স চালিয়ে জীবন যাপন করতেন। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে নবাবগঞ্জে থাকেন। গত কয়েকদিন থেকেই তার শরীরে সর্দি-জ্বর ছিলো। সোমবার সকালের পর থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এরপর পরিবারের লোকেরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে রাজধানী ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানকার আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আজ দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ওই বাড়িতে যান। এরপর মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর আগে তাঁর অসুস্থতার লক্ষণ শোনার পর পুরো গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করেন উপজেলা প্রশাসন।
এবিষয়ে ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, আমি ঘটনা শুনার পরপরই সরেজমিনে গিয়ে সকলকে নিরাপদে ঘরে থাকার পরামর্শ দেই। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মনজু’র বলেন, ওই ব্যক্তি সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। তবে কী রোগে তিনি মারা গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি আইসোলেশনে মৃত্যুবরণ করেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পুরো গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে।
এব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, মৃত্যুর সংবাদের সাথে সাথেই পুরো এলাকা লকডাউন করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লকডাউনের শর্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
