লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রতি বছর ৬ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস। মানুষের কথাবার্তায় সংযম আনা, উচ্চ স্বরে কথা বলার প্রবণতা কমানো এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানোই এই দিবসের মূল লক্ষ্য।
২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে দিবসটির যাত্রা শুরু হয়। ‘লেটস স্টপ শাউটিং কমিউনিটি ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ নামের একটি সংগঠন এ উদ্যোগ নেয়। সংগঠনটির মতে, অতিরিক্ত চিৎকার মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি এটি মানসিক চাপ বাড়ায় এবং মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে। তাই শান্তভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে উদ্যোগটি নেওয়া হয়।
এই প্রচারণাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন ব্রিটিশ কাউন্সেলর ইয়াসমিন শাহিন-জাফর। তার মতে, শুধু কথার বিষয়বস্তু নয়, কথা বলার স্বর ও ধরনও মানুষের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে। শান্ত কণ্ঠে কথা বললে অন্য ব্যক্তি নিজেকে বেশি নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করতে পারেন। পরবর্তী সময়ে স্কুল, পরিবার ও কর্মক্ষেত্রেও এই সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৪ সালে দিবসটির প্রচারণায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। বিশেষ করে নিউরোডাইভারজেন্ট ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা এবং তাদের বিশেষ চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মানসিক চাপের মুহূর্তে উচ্চ স্বরে কথা বলা বা চিৎকার তাদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্যশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
দিবসটির মূল শিক্ষা হলো, মত প্রকাশের জন্য উচ্চ স্বরে কথা বলা জরুরি নয়। বরং ধীরস্থিরভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে।
যেভাবে পালন করবেন বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস
এই দিবস পালনের জন্য বিশেষ কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে কথা বলার অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলেই দিবসটির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
১. নিচু স্বরে কথা বলুন: রাগ বা বিরক্তির সময়ও কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। স্বাভাবিক ও শান্ত স্বরে কথা বললে অন্য ব্যক্তিও ইতিবাচকভাবে সাড়া দিতে পারেন।
২. মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শুনুন: কেউ কথা বলার সময় মাঝখানে বাধা দেবেন না। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নিজের মতামত দিন। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে।
৩. শিশুদের সামনে সংযত থাকুন: পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। বড়দের আচরণ থেকেই শিশুরা অনেক কিছু শেখে।
৪. ঘরে শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন: বাড়িতে এমন একটি জায়গা রাখুন, যেখানে টেলিভিশন, মোবাইল বা অন্যান্য যন্ত্রের শব্দ কম থাকবে। সেখানে বই পড়া, বিশ্রাম নেওয়া কিংবা নীরবে সময় কাটানো যেতে পারে।
৫. কর্মক্ষেত্রে সহনশীল হোন: সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ হলে চিৎকার বা উত্তপ্ত তর্কে না জড়িয়ে শান্তভাবে সমস্যার সমাধান করুন। প্রয়োজন হলে আলাদা পরিবেশে আলোচনা করুন।
৬. যন্ত্রের শব্দ কমিয়ে দিন: টেলিভিশন, মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ভলিউম কম রাখুন। অবসরে উচ্চ শব্দের পরিবর্তে শান্ত গান বা পডকাস্ট শুনতে পারেন।
