চাকরি প্রত্যাশী অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা ঠিকমতো সিভি তৈরি না করার ফলে অনেকটা পিছিয়ে থাকে। যখন কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় সর্বপ্রথম তার সিভি/বায়ো ডাটা চাওয়া হয়। বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের চেয়ে চাকরির পদ সংখ্যা খুবই সীমিত। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, একটা প্রাইভেট কোম্পানি লোক নিবে ২০ জন অথচ ঐ ২০টি পদের বিপরীতে চাকরিতে দরখাস্ত জমা দেয় অন্তত ১২০০ জন ! তাহলে কিভাবে মিলবে আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরি ? এত প্রতিযোগিতার ভেতর নিজেকে কিভাবে টিকিয়ে রাখবেন ?
আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের লক্ষ করলে দেখা যায়, যখন তারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করে সেই অবস্থায় এক্সট্রা ক্যারিকুলার এক্টিভিটিস থেকে দূরে থাকে। অথচ এই এক্সট্রা ক্যারিকুলার এক্টিভিটিস তার ক্যারিয়ার গঠনে খুবই গুরুত্ব বহন করে। হাতেগোনা কিছু কোম্পানি ব্যতীত প্রায় সব প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিতেই যেকোনো চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা চেয়ে বসে ! যা চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য হতাশার হলেও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত বিষয়। যেই শিক্ষার্থী সবেমাত্র MBA/Master’s শেষ করলো সে কিভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে ? বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, চাকরিতে প্রবেশের পূর্বে তারা নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলে। বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী প্রায় ১৬ বছর পড়াশোনার মাধ্যমে তার শিক্ষা জীবনের ইতি টানে। অথচ ১৬ বছর পড়াশোনা শেষ করার পর যখন সে চাকরির খোঁজ করে তার পূর্বে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে না। কিন্তু কেনো ? পড়াশোনা কি শুধু চাকরির জন্য ? আমরা কি শুধুমাত্র চাকরি করার উদ্দেশ্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি ? আমরা কেন নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি না ? এটা কি আমাদের ব্যর্থতা নয় !
আমাদের সকল শিক্ষার্থীকে সবসময় একটা বিষয় মাথায় রেখে এগুতে হবে সেটা হচ্ছে পড়াশোনা শুধুমাত্র চাকরির উদ্দ্যেশ্যে নয়। পড়াশোনা করে আমরা কেনো উদ্যোক্তা হবো না ? অথচ যারা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েছেন তারা সবাই উদ্যোক্তা। পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু থেকেই নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে আমাদেরকে বেশকিছু কাজ হাতে নিতে হবে। যেহেতু বর্তমান আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে তাই প্রযুক্তি খাতে আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। যাতে পড়াশোনা শেষ করার পর সেই দক্ষতার বলে আমরা কাঙ্ক্ষিত চাকরিতে প্রবেশ করতে পারি বা কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ গ্রহণ করে উদ্যোক্তা হতে পারি। এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার পর প্রত্যেক শিক্ষার্থী কিছুটা অবসর সময় পায়। সেই সময়টা কাজে লাগালেই নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়। যেমন বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা, বেসিক ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা, বেসিক জার্নালিজম প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা, বেসিক ইংলিশ স্পিকিং এবং রাইটিং কোর্স সম্পন্ন করা, এছাড়া নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে নিজের নেতৃত্বদানের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বেসিক ফার্মাসিস্ট প্রশিক্ষণ, মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণসহ বাংলাদেশে খুব সহজেই বিভিন্ন ট্রেডে সরকারি/বেসরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যায়। যেসব প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে অন্য প্রতিযোগিদের থেকে এগিয়ে রাখা যায়।
লেখক : ইমরান খান রাজ
শিক্ষার্থী, শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ।
সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
