মো. নাজমুল হোসেন, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি : ৬২ বছর ধরে গাছ তলায় বাচ্চাদের পাঠ দান করাচ্ছেন শুনে আর থাকতে পারলাম না। চলে আসলাম মাধুরির পাঠশালায়। তার পাঠশালাটি দেখে আত্মতৃপ্তি হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে একজন মাধুরী বনিক থাকলে গ্রামে আর কেউ পড়ালেখা থেকে ঝড়ে পড়তো না বলে মন্তব্য করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। শুক্রবার (১৭ মার্চ) দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষাদাত্রী মাধুরী বণিককের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি স্বাধীনতার মহান স্থাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে শিক্ষাদাত্রী মাধুরী বণিককে সংবর্ধনা দিতে এ আয়োজন। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির ১০জন নেতা এখানে এসেছি। আমরা মনে করি, মাধুরী বণিককে জাতীয় পর্যায়ে সংবর্ধনা জানানো উচিত। স্বাধীনতা পুরস্কার কারা পান? আমরা জানি না। শিক্ষার জন্য মাধুরী বণিক যদি স্বাধীনতা পুরস্কার না পান, ধিক সে পুরস্কারকে। যারা এ পুরস্কার দিচ্ছেন, আর যারা এ পুরস্কার নিচ্ছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাধুরী বণিকের পাঠশালা নির্মানের জন্য নগদ এক লাখ ৩ হাজার টাকা, সাড়ে ৭শত বই উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া সাংবাদিক মুন্নি সাহার পক্ষ থেকেও বই উপহার দেয়া হয় ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামল নাসরিন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বারক আলভী, সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর টাবী, জাগরণ সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের নির্বাহী সভাপতি মো. শওকত আলী, নির্মূল কমিটির আইটি সেলের সভাপতি আসিফ মুনীর।
আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মুন্নি সাহা, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আ. হালিম, নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইব্রাহীম খলিল, সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটে শিশুদের মাঝে বিতরণ করেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শেষে অতিথিবৃন্দ মাধুরী বণিকের পৈত্রিক বাড়ি পরিদর্শন করেন। এসময় বাড়ি মেরামতসহ একটি স্কুল ও লাইব্রেরি করার জন্য ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, কুমারী মাধুরী বণিক স্থানীয়ভাবে নারী ও শিশু অধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত। এলাকার শিশু ও নারী শিক্ষা বিস্তারে তার অনন্য ভূমিকা রয়েছে। সম্প্রতি একটি প্রথম সারির দৈনিকে লেখক কলামে মাধুরী বণিককে নিয়ে কলাম প্রকাশ করা হয়। কলামটি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির নজরে এলে তারা মাধুরী বণিকের খোঁজ নিয়ে তাকে সংবর্ধনা জানান।
