চায়না দুয়ারি’ জালে সয়লাব, বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছ

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: একসময় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজারে মিলত প্রচুর। সেসব মাছ চোখে পড়ে না। জেলেদের জালেও ধরা পড়ে খুব কম। দেশীয় এসব মাছের মধ্যে রয়েছে— কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, ডারকা, মলা, ঢেলা, চেলা, শাল চোপরা, শোল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বুড়াল, বাইম, খলিসা, ফলি, চিংড়ি, মালান্দা, খরকাটি, গজার, শবেদা, চেং, টাকি, চিতল, গতা, পোয়া, বালিয়া, উপর চকুয়া, কাকিলা, গুত্তুম, গজার বৌরানীসহ প্রায় ৫০টিরও বেশি মিঠা পানির বিভিন্ন ধরনের মাছ। তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একশ্রেণির মৎস্য শিকারি চায়না দুয়ারি, কারেন্ট চাল, মশারি দিয়ে তৈরি নেট জাল, বাদাই জাল দিয়ে মা ও পোনা মাছ নিধনে মেতে উঠেছে। সবচেয়ে ভংয়কর রূপে দেখা দিয়েছে চায়না দুয়ারি জাল। এই জালে আটকা পড়ছে সব প্রজাতির জলজ জীব।
এমন কোনো মাছ নেই যা এই জালে ধরা পড়ে না। স্বল্প ব্যয়ে এবং কম পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরতে বিপজ্জনক এই জাল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এলাকার মৎস্যজীবীদের কাছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের বিলুপ্তির শঙ্কা প্রকাশ করছে সচেতন মহল। মৎস্য বিভাগের কাছে এই জাল ‘সর্বনাশা’ নামে পরিচিত হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। দিন দিন এই অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, খাল-বিল-ডোবা ভরাট, উন্মুক্ত জলাশয়ে সেচে ও বাঁধ নির্মাণসহ মাছের বিচরণক্ষেত্রের প্রতিকূলতা, পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে এসব মাছ বিলুপ্তির পথে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
এছাড়া কৃষিজমি থেকে রাসায়নিক পদার্থ বর্ষার সময় ও বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য খালের মাধ্যমে নদী ও জলাশয়ে পড়ে পানি দূষিত হওয়ার কারণেও এসব মাছ কমছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *