মোহাম্মদ আককাস আলী,জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় উন্মুক্ত জলাশয়ে হাঁস পালন করে সাফল্যের স্বপ্নে বিভোর উদ্যোক্তা শাহীন আলম। সদর উপজেলার
গয়ের পাড়া গ্রামের লেজু মন্ডলের ছেলে উদ্যোক্তা শাহিন আলম। একসময় বেকার ও আর্থিক সংকটে থাকা শাহিন এখন ৭০০ হাঁসের খামার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন। তার খামারে প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে,যা বিক্রি করে তার স্বপ্ন সাফল্যের এগিয়ে যাচ্ছে।
শাহিন আলম জানান, প্রায় চার মাস আগে ছয় মাস বয়সী ৭০০ হাঁস কিনে আনেন তিনি। প্রতিটি হাঁসের দাম ছিল ৩০০ টাকা। সে হিসাবে হাঁস কেনার পেছনে তার প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। বাড়ির পাশের বিল মনছুর নামের একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে হাঁসগুলো পালন শুরু করেন তিনি।
দিনের বেলা হাঁসগুলো জলাশয়ে ঘুরে শামুক, ছোট মাছ ও পোকামাকড়সহ প্রাকৃতিক খাবার খুঁজে খায়। রাতে খামারে ফিরিয়ে এনে ধান ও হাঁসের খাদ্য দেওয়া হয়। এতে দিনের খাবারের একটি বড় অংশ প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ হওয়ায় খাদ্য ব্যয় তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব হচ্ছে।
খামারের হাঁসগুলোর দেখাশোনা ও পরিচর্যা করেন জয়পুরহাট জেলার আমজাদ হোসেনের ছেলে রাকিব। তিনি জানান, প্রতিদিন রাতে হাঁসগুলোকে দেড় মণ ধান ও ১০ কেজি প্রস্তুত খাবার দেওয়া হয়। ধান কিনতে দৈনিক প্রায় এক হাজার টাকা এবং প্রস্তুত খাবারে ৭৫০ টাকা ব্যয় হয়। এ ছাড়া তার দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে খামারের দৈনিক ব্যয় প্রায় ২ হাজার ২৫০ টাকা।
রাকিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খামারটিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০টি ডিম পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ডিম পাইকারি বাজারে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করলে দৈনিক মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ব্যয় বাদে অবশিষ্ট থাকে ৫ হাজার ২৫০ টাকা। মাসে ৩০ দিন একই উৎপাদন ও বিক্রি বজায় থাকলে এই অঙ্ক দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে এ হিসাবের মধ্যে হাঁস কেনার প্রাথমিক বিনিয়োগ, চিকিৎসা, পরিবহন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে প্রকৃত নিট মুনাফা নির্ধারণে সব ব্যয় হিসাব করা প্রয়োজন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে হাঁস প্রাকৃতিকভাবে পর্যাপ্ত খাবার সংগ্রহ করতে পারে। হাঁসের খাদ্য চাহিদা বেশি হওয়ায় এ পদ্ধতিতে খাদ্য ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। সে কারণে উপযুক্ত পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে উন্মুক্ত জলাশয়ে হাঁস পালন লাভজনক হতে পারে।
হাঁসের ডিম ও মাংসেও পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং বাজারে এর চাহিদা আছে। সঠিক পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে হাঁস পালন গ্রামীণ এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান এবং আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
