স্বপ্নের সারথি: মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ্ উদ্যোক্তা, ক্রীড়া সংগঠক, মানবিক নেতা ও স্বপ্ন নির্মাতার অনন্য জীবনগাথা

কাজী সোহেল,  “মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন নিজের জন্য কিছু করা নয়; প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে, যখন নিজের কর্মে অন্য মানুষের জীবন আলোকিত করা যায়। এই বিশ্বাসকে হৃদয়ে ধারণ করেই পথ চলছেন মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ একজন সফল উদ্যোক্তা, দক্ষ কর্পোরেট প্রশাসক, ক্রীড়া সংগঠক এবং সমাজসেবক হিসেবে তিনি আজ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম।
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বান্দুরা তাঁর জন্মভূমি। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং নেতৃত্বগুণে উজ্জ্বল।
মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শতবর্ষেরও অধিক পুরনো বান্দুরা হলিক্রশ স্কুল এন্ড কলেজ  থেকে ও উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নটর ডেম কলেজ থেকে। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে স্নাতক (বি. ফার্ম), স্নাতকোত্তর (এম. ফার্ম) এবং পরবর্তীতে হেডওয়ে ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি যেমন একজন কৃতী শিক্ষার্থী ছিলেন, তেমনি ক্যাম্পাসের অন্যতম সেরা ফুটবল ও হ্যান্ডবল খেলোয়াড়, এথলেটিক ও সেরা সংগঠক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মা, যার উৎসাহ, দোয়া ও ভালোবাসা তাঁকে প্রতিটি ধাপে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে।
কর্মজীবনের সূচনা হয় বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে। ইন্টার্নশিপের সময় আধুনিক ওষুধ উৎপাদনের প্রযুক্তি ও মানুষের জীবন রক্ষার প্রয়াস তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। সেই অনুপ্রেরণাই একসময় রূপ নেয় স্বপ্নের দেশের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার।
আজ সেই স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেড, যেখানে তিনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ্ছাড়াও একাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সহ এভারেস্ট এগ্রি এন্ড ফ্রুটিকালচার লিঃ এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত। ওষুধ শিল্প, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আবাসন খাত এবং আন্তর্জাতিক করপোরেট নেতৃত্বে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন দূরদর্শী সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
করপোরেট দায়িত্বের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর অবদান সমানভাবে সমাদৃত। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন-এর সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশের ফুটবল, হ্যান্ডবল সহ অন্যান্য খেলাধুলার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস “খেলাধুলা শুধু একজন খেলোয়াড়ই নয়, একজন দায়িত্বশীল নাগরিকও তৈরি করে।”
নিজ গ্রাম তথা পুরো যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তিনি পুরাতন বান্দুরা নবীন সেতু সংঘ- এর সভাপতি হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করছেন। সংগঠনের মূলমন্ত্র”এসো যুবক মাঠে লড়ি, মাদকমুক্ত দেশ গড়ি” তাঁর জীবনদর্শনেরই প্রতিফলন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিবছর আয়োজিত গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আজ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন। আর্থিক সংকটে একসময় এই টুর্নামেন্ট বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করে সবাইকে নিয়ে তিনি এর ধারাবাহিকতা দীর্ঘ ২৬ বছর যাবৎ বজায় রেখেছেন  যা তাঁর ক্রীড়াপ্রেম ও দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সমাজসেবা তাঁর ব্যক্তিত্বের এক অনন্য ও উজ্জ্বল অধ্যায়। মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করাই তাঁর জীবনের অন্যতম অঙ্গীকার। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান, দরিদ্র কন্যার বিবাহে সহযোগিতা, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিএসব মানবিক উদ্যোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নীরবে অবদান রেখে চলেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর শ্রদ্ধেয় বাবা-মায়ের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে প্রতিষ্ঠা করেছেন “ফাতেমা-মনসুর ফাউন্ডেশন”। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মপ্রত্যাশীদের আর্থিক সহায়তা, অসহায় মানুষের জন্য কল্যাণমূলক সহযোগিতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে নিয়মিত ভূমিকা রাখা হচ্ছে। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করাই তাঁর জীবনের অন্যতম দর্শন।
তাঁর ভবিষ্যৎ স্বপ্নের মধ্যে রয়েছে পুরাতন বান্দুরায় একটি আধুনিক স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস একাডেমি, সাধারণ মানুষের জন্য একটি সেবামূলক হাসপাতাল এবং এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস- এর উদ্যোগে একটি বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা। তাঁর বিশ্বাস, কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি মানুষকে একত্রিত করার শক্তিশালী দর্শন।
সততা, অধ্যবসায়, দূরদর্শিতা এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ্ আজ কেবল একজন সফল ব্যবসায়ী নন; তিনি একজন স্বপ্ন নির্মাতা, যিনি বিশ্বাস করেনÑ”যে স্বপ্ন শুধু নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য দেখা হয়, সেই স্বপ্নই একদিন ইতিহাস হয়”। তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য আত্মবিশ্বাস, ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত, নেতৃত্ব এবং মানবকল্যাণের এক উজ্জ্বল প্রেরণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *