ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. দবিরুল ইসলামের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন তার ছেলে এবং একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মুক্তি পেয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের ডাঙ্গী বাজারে পৌঁছান। বাবার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই তাকে এই সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন পর সাবেক এই সংসদ সদস্যকে নিজ এলাকায় দেখতে শত শত মানুষ জানাজার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করেন। শোকাহত স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার অবদান ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
কারা সূত্র জানায়, জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মাজহারুল ইসলাম সুজনকে পুনরায় দিনাজপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকা থেকে র্যাব-১ সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়। আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর থেকে তিনি দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
এদিকে, প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে বালিয়াডাঙ্গীসহ সমগ্র ঠাকুরগাঁও জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবার শেষ বিদায়ে কারাবন্দী ছেলের উপস্থিতি জানাজা মাঠে উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।
