পৃথিবী থেকে পুরুষ জাতি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা!

মানুষসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পুরুষ লিঙ্গ নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হলো ওয়াই (Y) ক্রোমোজোম। এটি শুধুমাত্র পুরুষদের কোষে থাকে এবং সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন বেশ জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে—ওয়াই ক্রোমোজোম কি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে? বিশেষ করে ২০২০ সালে ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ (পিএনএএস) সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণার পর থেকেই বিষয়টি নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে গবেষকদের। কেউ কেউ তো সুদূর ভবিষ্যতে পৃথিবী থেকে পুরুষ জাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, জিনগত মিউটেশন বা পরিবর্তনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া রয়েছে। মিউটেশন ভালো বা খারাপ দুই ধরনেরই হতে পারে। আর ওয়াই ক্রোমোজোমের ক্ষেত্রে যা ঘটছে, তা মূলত এক ধরনের ‘ক্ষতিকর মিউটেশন’ বা জিনের ক্ষয়।

ওয়াই ক্রোমোজোমের এই ক্ষয় কেন রোধ করা যাচ্ছে না, তার পেছনে এক অনন্য জৈবিক কারণ রয়েছে। আমাদের শরীরে এক্স (X) ক্রোমোজোম বাবা ও মা উভয়ের থেকেই আসে এবং এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। ফলে এরা নিজেদের মধ্যে বাহু অদলবদল করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় এক্স ক্রোমোজোম তার ক্ষতিকর মিউটেশনগুলো নিজে নিজেই মেরামত করে নেওয়ার সুযোগ পায়।

অন্যদিকে, ওয়াই ক্রোমোজোম কেবল বাবার দেহ থেকে আসে এবং এটি কোষে সবসময় একা থাকে। কোনো উপযুক্ত সঙ্গী না থাকায় এটি বাহু অদলবদল বা মিউটেশন মেরামতের সুযোগ পায় না। ফলে মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই ওয়াই ক্রোমোজোম একাকীত্বের অভিশাপে ধীরে ধীরে তার জিনের সংখ্যা হারাচ্ছে।

ওয়াই ক্রোমোজোমের এই ক্রমাগত ক্ষয় নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও বিজ্ঞানীরা কিন্তু আশ্বস্ত করছেন। তাদের মতে, এর ফলে পুরুষ প্রজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে না। বিবর্তনের এই দীর্ঘ ধারায় এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া।

গবেষকদের ধারণা, প্রকৃতি তার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নিজেই নতুন কোনো বিকল্প উপায় বের করে নেবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সুদূর ভবিষ্যতে—সম্ভবত লাখ লাখ বছর পর—পুরুষের লিঙ্গ নির্ধারণের দায়িত্ব ওয়াই ক্রোমোজোমের বদলে শরীরের অন্য কোনো জিন নিজের কাঁধে তুলে নেবে। এই বিবর্তনমূলক পরিবর্তনটি অত্যন্ত ধীরগতির এবং এটি মানব প্রজাতির অস্তিত্বের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক বিপদ নয়। তাই ওয়াই ক্রোমোজোমের বর্তমান অবস্থাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *