নবাবগঞ্জে মাদ্রাসার চার শিক্ষার্থীকে নির্যাতন: শিক্ষকদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন 

নিজস্ব প্রতিদেক:  ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের জৈনতপুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় ৪ শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় মাদ্রাসার প্রধান ফটকে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেন ভুক্তাভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার ও এলাকাবাসী। পরে মাদ্রাসার দুই শিক্ষক মো. জাকারিয়া ও মো. নান্দান এবং আলালপুরের সোহেল নামে এক ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করেন আন্দোলনকারীরা।

এসময় নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী সাঈদ হোসেন বলেন, তুচ্ছ ঘটনার জেরে নান্দান জি উস্তাদ আমার পায়ের উপর ২ মিনিটের মত দাড়িয়ে ছিল। আমি চিৎকার করলেও তিনি কর্ণপাত করেনি। উল্টো আমাকে বেত দিয়ে মারধর করেছে।

আরেক শিক্ষার্থী সুয়েব হোসেন বলেন, পড়া না পারায় জাকারিয়া হুজুর আমাকে বেত দিয়ে ৮/৯ টা বারি দিয়েছে। তিনি আমাকে বলেছে, তোকে মেরেই ফেলবো, হয়তো তুই এ মাদ্রাসা থাকবি না হয় আমি থাকবো।

একই অভিযোগ নির্যাতনের শিকার অন্য দুই শিক্ষার্থী জুনায়েত কাজী ও সিফাতের। অভিযুক্ত ঐ দুই শিক্ষক কারনে অকারনে তাদের নানাভাবে নির্যাতন করেন বলে জানান তারা।

মানববন্ধনে জুনায়েত কাজীর বাবা মুন্নু কাজী বলেন, আমার ছেলেকএ অমানসিক নির্যাতন করেছে। আমি মাদ্রার প্রধানের কাছে গিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাইনি৷ আমাদের বাচ্চাদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এখন। আমরা চাই অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিচার হোক, যাতে এধরনের ঘটনা আর না ঘটে। দুই একজন শিক্ষকের জন্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হতে পারে না।

কাজী জুনায়েতের মা জান্নাতুল আক্তার বলেন, আমার ছেলে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়তেই কান্নাকাটি করত। এ কারণে আমার ছেলেকে মারধর করেন শিক্ষকরা। এ ঘটনার দুদিন পর গোসলে দেরি হওয়ায় শিক্ষক জাকারিয়া আমার ছেলেকে সকাল সাড়ে ১১ থেকে ১টা পর্যন্ত কান ধরে উঠ-বস করায়। এমনকি দুই কান টেনে ধরে রাখার জন্য কান দিয়ে রক্ত বের হয়।

মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী সাঈদ হোসেনের মা সুমি আক্তার বলেন, ওরা ছোট মানুষ। আমার ছেলেকে দুষ্টুমি করায় অভিযোগে শিক্ষক জাকারিয়া ওর এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এমনকি লাঠি দিয়ে এমনভাবে হাতের মধ্যে আঘাত করে এখনো আঘাতের চিহ্ন রয়ে গেছে। এভাবে সামান্য কারনে একটি ছেলেকে নির্যাতন করতে পারে না।

এ বিষয়ে জানতে আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আশরাফুল ইসলামকে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

এব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজালাল বলেন, আমরা এঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী কাজী জুনায়েতের বাবা ও উপজেলার কুমারবাড়িল্যা এলাকার মুন্নু কাজী। এব্যাপারে  নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলম আজাদ, জানান, আমি শুরুতে ঘটনা শুনেছি, পরে জানলাম মীমাংসা হয়েছে, এখন জানলাম মানববন্ধন করা হয়েছে। যেহেতু মানববন্ধন হয়েছে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *