নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নান্নু শরীফ ও মোক্তার হোসেনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। সরজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে কার্তিকপুর এলাকার রহুল আমিন নামে এক ব্যক্তির পাওনা টাকা দেয়ার বিষয়ে মো.আলী শরিফের কাছে জানতে চান তার আত্মীয় নান্নু শরীফ। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সিরাজ শরীফ ও মো.আলী শরিফ নান্নু শরীফকে শারীরিবভাবে লাঞ্ছিত করেন।
একই দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের জন্য বসলে আবারও নান্নু শরিফকে লাঞ্ছিত করেন মো.আলী। এসময় নান্নু শরিফের ছেলে শামিম শরীফ প্রতিবাদ জানায়। পরে মো.আলী শামিমসহ তার পরিবারকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে বেড়িয়ে যায়। ঘটনার একদিন পর শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে শিরাজ শরিফ, মো.আলী শরিফ,মারুফ শরিফ ও শিফাত শরীফসহ আরও ১০/১২ জন মুখ বাঁধা অবস্থায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নান্নু শরিফের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় ও দরজা জানালা ভাংচুর করে। এসময় সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর ভেঙ্গে হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। তবে এই ঘটনায় কোন হতাহত হয়নি।
নান্নু শরিফের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানান, আমার স্বামী ও ছেলেকে মেরে ফেলতে এমন আক্রমন করা হয়েছে। আমরা ২য় তলার গেইট বন্ধ করে দেয়ায় সবাই প্রাণে বেচে যাই। আমরা প্রতিনিয়ত এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
এদিকে নান্নু শরীফের পক্ষে কথা বলায় প্রতিবেশী মুক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা চালায় মো.আলী শরিফ গংরা। এই বিষয়ে মুক্তার হোসেন জানান, আমার ছেলে প্রতিবাদ করায় আমার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। ঘটনার পর দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নান্নু শরিফের স্ত্রী শাহনাজ বেগম।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা দোহার থানার এস আই শুভাষ দত্ত জানান, এবিষয়ে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত মো.আলী শরিফের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমরা কেউ হামলার সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এটি কতটুকু সত্য তা জানিনা। আমাদের উপর মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
