আব্দুল রাহিমঃ গ্রীষ্মের পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি ফলের নাম হলো তালের শাঁস। প্রচণ্ড গরমে এ ফলটি শহর ও গ্রামের মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠের অর্ধেক সময় পর্যন্ত এ দেড় মাস চলে তালের শাঁস বিক্রির কাজ।
বিক্রেতারা স্থানীয়ভাবে এগুলো সংগ্রহের পাশাপাশি দেশের নানা জায়গা থেকে আমদানিও করে থাকেন। এ ফল খেতে শুধু সুস্বাদুই নয়, এতে রয়েছে অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।
রবিবার (২৮ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোহার উপজেলা জয়পাড়া কলেজ রোডে তালের শাসঁ বিক্রি করতে। সুস্বাদু এ ফলটির বিক্রেতারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাল কেটে তালের শাঁস বের করছেন, আর ক্রেতারাও অনেক আগ্রহ নিয়ে এ ফলের শ্বাস কিনছেন।
মৌসুমি অনেক ফলের সঙ্গে এ ফলের কদর বেড়েছে, যার ফলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে খেতে দেখা যায় সুস্বাদু এ তালের শাঁস। ফলটি ছোট শিশু থেকে শুরু করে সবাই পছন্দ করেন।
দোহার উপজেলা কলেজ রোডে বসা তালশাঁস বিক্রেতা সিরাজ খাঁ (৫৫ বলেন, প্রতিটি তালের ভেতরে দুই থেকে তিনটি শাঁস থাকে এবং তাল আমরা গাছ প্রতি পাইকারী দামে কিনে বাজারে প্রতিটি তালের ৩ টি শাসঁ খুচরা বাজারে ২০ টাকা করে বিক্রি করি। তাল আমরা গাছ প্রতি পাইকারী দামে কিনে বাজারে আনি। এতে করে আমরা প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ তা বিক্রি করতে পারি। তালের বাজার এখন সস্তা তাই বিক্রি কম। গরম পড়লে তালের শাঁস অনেক বেশি বিক্রি হয়। প্রতি বছর এ মৌসুমে তালের শাঁস বিক্রি করে থাকি।
তাল শাঁস কিনতে আসা ক্রেতা সালমান (১৮) বলেন, গ্রামঞ্চলে মৌসুমি ফল হিসেবে তালের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। মৌসুমি ফলগুলোতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও ফরমালিন ব্যবহার করায় ফলগুলো মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। কিন্তু তালে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়না। তাই এই ফলটি যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। এজন্য আমি বাসায় তাল কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
