মোহাম্মদ আককাস আলী,জেলা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ হলেও বর্তমানে দেশের কৃষকেরা বেশ কিছু বড় সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। সার সংকট, ভেজাল কীটনাশক এবং ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া—এই তিনটি সমস্যা বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সমস্যাগুলোর মূল কারণ এবং কৃষকদের বর্তমান পরিস্থিতি বেগতিক।
বাজারে অনেক সময় ডিলার ও অসাধু ব্যবসায়ীরা সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি অনেক বেশি দামে কৃষকদের ইউরিয়া, টিএসপি বা ডিএপি সার কিনতে হয়। ধান রোপণ বা পরিচর্যার মূল মৌসুমে সারের তীব্র অভাব দেখা দেয়, যা ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাজারে নামসর্বস্ব কোম্পানির ভেজাল কীটনাশকে ছেয়ে গেছে। এগুলো ব্যবহারে পোকা তো মরেই না, উল্টো ধান গাছ নষ্ট হয়। নকল কীটনাশক কিনে কৃষকেরা একদিকে টাকা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় দ্বিগুণ লোকসানের মুখে পড়ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের যথাযথ নজরদারি ও ভেজালবিরোধী অভিযানের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
ধান কাটার মৌসুমে বাজারে ফড়িয়া বা দালালদের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ধান কিনে নেয়।
সরকারিভাবে ধান কেনার প্রক্রিয়া চালুর আগেই কৃষকেরা টাকার প্রয়োজনে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন। আবার গুদামে ধান দিতে গেলে নানারকম নিয়ম ও হয়রানির শিকার হতে হয়।
সার, তেল, বীজ, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষ করে কৃষকের আসল টাকাই উঠছে না।
স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে সারের ডিলার এবং কীটনাশকের দোকানে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা এবং কৃষকেরা কিভাবে ধানের ন্যায্য মূল্য পাবে সেই দিকে প্রশাসনের তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানান সমালোচকেরা।
