জেলা প্রতিনিধি: মেহেরপুর শহরে গভীর রাতে একই পরিবারের তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে শাওন (৩০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হামলায় তার প্রেমিকা স্মৃতি আক্তারের (২২) একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্মৃতির বাবা সেলিম (৫০) ও মা রেবেকা সুলতানা কামনাও (৪২) গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, রাতে সেলিমের বাসার দিক থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। এ সময় শাওনকে ওই পরিবারের সদস্যদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে দেখা যায়। পরে হামলাকারী শাওন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হামলায় স্মৃতি আক্তারের একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই ঘটনায় তার বাবা সেলিম ও মা রেবেকা সুলতানা কামনাও গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাওনকে আটক করেছে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, স্মৃতি আক্তারের সঙ্গে সাওনের তিন থেকে চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েকদিন আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এক থেকে দুই দিন আগে স্মৃতি সাওনকে ডিভোর্স দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এ ঘটনার জেরেই সাওন ওই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একই পরিবারের তিনজনের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার পেছনের বিরোধ এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
