লতা মন্ডল, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সিরাজদিখান বাজার সমবায় মার্কেট ও থানা এলাকার সামনের ডোবাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। জমে থাকা নোংরা পানি, পলিথিন, প্লাস্টিক ও পচা বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মশার প্রজনন বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সমবায় মার্কেটের আশপাশের ডোবা এবং থানার দুশ’গজ সামনের অংশে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমে আছে। কোথাও কোথাও পানি জমে কালচে রং ধারণ করেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বৃষ্টির সময় এসব স্থানে পানি উপচে পড়লে বাজারে আসা ক্রেতা, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় ডোবাগুলো কার্যত বর্জ্য ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। বাজারের দোকানপাট পশুপাখির বর্জ ও আশপাশের বাসাবাড়ির বর্জ্যও সেখানে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি এডিস মশাসহ বিভিন্ন মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গির বলেন, বাজারে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসেন। কিন্তু ডোবার দুর্গন্ধ ও ময়লার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পানি আটকে চলাচলও কঠিন হয়ে যায়। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর সময় এ ধরনের নোংরা জমে থাকা পানি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রæত ডোবা পরিষ্কার, মশার ওষুধ ছিটানো এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ দরকার।
রশুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আবু সাঈদ বলেন, বাজার ও থানা এলাকার ডোবাগুলো দ্রæত পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা জোরদার করা এবং যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হবে। ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ইউনিয়ন পরিষদ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, সিরাজদিখান বাজার সমবায় মার্কেট ও থানার সামনের ডোবায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রæত ডোবা পরিষ্কার, বর্জ্য অপসারণ এবং পানি চলাচলের ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় মশকনিধন কার্যক্রমও নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার প্রজননের অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তাই ডোবা পরিষ্কার, পানি চলাচলের ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রয়োজনীয় মশকনিধন কার্যক্রম জরুরি।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছন্নতা কর্তৃপক্ষের দ্রæত পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সমবায় মার্কেট ও থানার সামনের ডোবা পরিষ্কার করে বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হোক।
