বৃদ্ধ বয়সেও রিকশার প্যাডেলে মমিন খালাসী, পাশে দাঁড়ালেন দোহার ইউএনও মাঈদুল ইসলাম

অশীতিপর বয়স। জীবনের এই শেষ প্রান্তেও সংসারের চাকা সচল রাখতে রিকশার প্যাডেলে পা রাখতে হচ্ছে মমিন খালাসীকে। ছেলেরা খোঁজখবর নেন না। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর এলাকায় রিকশা চালানো অবস্থায় বয়োবৃদ্ধ মমিন খালাসীর সঙ্গে দেখা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাঈদুল ইসলামের সাথে। তাঁর বয়স জানতে চাইলে তিনি নিজেকে অশীতিপর বলে জানান। তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি।
এ সময় দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাঈদুল ইসলাম উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মমিন খালাসীর হাতে অনুদান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা তুলে দেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁর মতো অসহায় ও বয়োবৃদ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দেওয়া হয়।

আজ (রোববার) দোহার উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।  ইউএনও মাঈদুল ইসলাম মমিন খালাসীর ছবিসহ পোস্টে লেখা হয়- ‘আজ সকালে মুকসুদপুর এলাকায় নিম্নোক্ত বয়োবৃদ্ধ মমিন খালাসীকে দেখলাম রিক্সা চালাচ্ছেন। বয়স বললেন অশীতিপর! ছেলেরা খোঁজ নেন না। সরকারি অনুদানের হকদার তিনি। উপজেলা প্রশাসন দোহার এর পক্ষ থেকে মমিন খালাসিকে সামান্য অনুদান দেওয়ার চেষ্টা। আসুন বয়োবৃদ্ধ বাবা মাকে তাদের প্রাপ্যটুকু দিয়ে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার ঐতিহ্যকে ধরে রাখি। বাবা মাকে ভরণপোষণ দেওয়া প্রত্যেক সন্তান আইনগত ভাবে বাধ্য। এর ব্যত্যয় হলে প্রত্যেক বাবা মা আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।’

পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই এমন মানবিক কাজের প্রশংসা করেন।  একই সঙ্গে পোস্টটি সন্তানদের প্রতিও আহ্বান জানায়- বৃদ্ধ বাবা-মাকে বোঝা নয়, তাঁদের প্রাপ্য সম্মান, ভালোবাসা ও ভরণপোষণ দিয়ে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *