রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়

ডারউইনের আকাশে আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন সূর্যোদয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদেরই ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখল টাইগাররা। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসানের শতক, বল হাতে হাসান মাহমুদের আগুনঝরা ৯ উইকেট আর মিরাজের স্পিন ঘূর্ণিতে চার দিনের লড়াই শেষ হলো বাংলাদেশের গৌরবের জয়ে।

১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিয়ে ডারউইনে ৪২৬ রানের কাব্যিক ইনিংস খেলে বাংলাদেশ। এরপর ২৮৪ রানে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস থামিয়ে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়েসেই পার করল টাইগাররা। স্বাগতিকের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন।

একটা সময় বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন গ্রিন। তাকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয় টাইগাররা। দলগত ২৭৮ রানে ৯ উইকেট হারায় অজিরা। আর পেরে ওঠেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ তার পঞ্চম উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের অলআউট করেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়ন এলবিডব্লিউ হন।

তার আগে চতুর্থ দিন প্রথমবার বল হাতে নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পান হাসান মাহমুদ। অফস্টাম্প বরাবর ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তিনি। ২০১ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ে ১০৪ রানে থামেন গ্রিন। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় উইকেট তুলে নেন। ম্যাচে ৯ উইকেট হয় তার।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ৯৫ রানে জীবন পান গ্রিন। অজি ব্যাটার সুযোগ কাজে লাগিয়ে করে শতক হাঁকান। কিন্তু দলের কঠিন পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরি করলেও ইনিংস বাড়াতে পারলেন না তিনি।

এর আগে লাঞ্চ থেকে ফিরে তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেটের পতন ঘটায়। ৮৭তম ওভারের পঞ্চম বলে মিচেল স্টার্ককে লিটন দাসের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ।

৩৪ বলে দুই চারে ১৮ রান করেন স্টার্ক। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৪৩ রানের। ২৫০ রানে ৮ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার। ২২ রানের লিড তাদের।

চতুর্থ দিনেও প্রথম সেশন নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এই সেশনে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাই লড়েছেন ক্যামেরন গ্রিন। তার হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৫ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে যায়। গ্রিন ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ টেস্ট রান ৮৫ ও মিচেল স্টার্ক ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

মিরাজ প্রথম দেড় ঘণ্টায় স্পিন জাদুতে অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফেরান। বাংলাদেশি অফস্পিনারের বোলিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু গ্রিন ও স্টার্কের জুটিতে দ্বিতীয় ইনিংস লিড নেয় স্বাগতিকরা। রোববার প্রথম সেশন শেষে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৪৩ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল অজিরা। দিনের সপ্তম ওভারে তারা পঞ্চম উইকেট হারায়। ক্যারিকে ফিরিয়ে গ্রিনের সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি ভেঙে দেন মিরাজ। ক্যারি ৭২ বলে ৩০ রান করে লিটন দাসের ক্যাচ হন।

১৩ মাস পর ও ১৩ ইনিংসে প্রথম হাফ সেঞ্চুরিতে অপরাজিত গ্রিনের সঙ্গে ক্রিজে থাকতে পারেননি ওয়েবস্টার। মিরাজ তাকে ৫ রানে বোল্ড করেন। ১০৯ বলে ২ চারে ফিফটি করা গ্রিনকে সঙ্গ দিতে নেমে প্যাট কামিন্স মাত্র ৮ রান করে সাদমান ইসলামের ক্যাচ হন। তাকেও ফেরান মিরাজ। এটি ছিল নতুন দিনে তার তৃতীয় ও ইনিংসে চতুর্থ উইকেট। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট পড়ে অস্ট্রেলিয়ার। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *