সিরাজদিখানে স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আব্দুল জব্বার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের সাধারণ শাখার ধর্মীয় শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, আব্দুল জব্বার বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সাধারণ ও ভোকেশনাল—দুটি শাখা রয়েছে। অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের সাধারণ শাখায় ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পরিবেশে ওই ছাত্রীকে কান ধরে ওঠবস করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীর কোনো ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও শিক্ষাবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। প্রকাশ্যে কোনো শিক্ষার্থীকে অপমানজনকভাবে শাস্তি দিলে তার ওপর মানসিক চাপ ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।

অভিযুক্ত শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন,জাতীয় সংগীত পরিবেশন এর সময় একজন শিক্ষার্থী হাসাহাসি করেছিলো তার সাথে সাথে অন্যরা হাসাহাসি করে তাই আমি ঐ শিক্ষার্থীকে ডেকে ওঠবস করতে বলি, তবে ভিডিওতে দেখবেন আমি তাকে কান ধরতে নিষেধ করেছি, কিন্তু সে তার পরেও কান ধরে উঠবস করেছে, আমি তাকে জাস্ট একজন শিক্ষক হিসেবে শাসন করতে চাইছে অন্য কিছুই না, কিন্তু এখানে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও টা করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে তবে এটা যেই করুক আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে যে কেউ করেছে, আমি এই বিষয় কিছুই জানিনা।

আব্দুল জব্বার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম মাসউদুর রহমান জানান,

আমি পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে আজ রোববার বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা: কামরুন্নাহার জানান,ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *