স্টাফ রিপোর্টারঃ শ্রীনগরে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক যুবককে ৪পিস দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বীরতারা চান্দারটেক থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী পলাশ মন্ডলকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে নিমতলী গ্রামের কৃষ্ণ মন্ডলের ছেলে পলাশ মন্ডল চান্দারটেক বাসস্ট্যান্ডে আসে। এসময় স্থানীয় বখাটে যুবক রাসেল,ইমন,হৃদয়,সালাম মিলে তার সাথে কানাকানি শুরু করে। কিছুক্ষন পর পলাশের কাছে ইয়াবা আছে বলে চারজনই একসাথে ডাকা ডাকি শুরু করে। এসময় বাসস্ট্যান্ডের দোকানীরা সহ স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পলাশের কাছ থেকে একটি পোটলা বের করা হয়। সেখানে প্রায় একশর মতো ইয়াবা ট্যাবলেট দেখা যায়।
একটু পর স্থানীয়দেরকে সরিয়ে দিয়ে বীরতারা গ্রামের মোঃ নাজিরের ছেলে রাসেল,শামসুল ইসলামের ছেলে ইমন, সোহরাবের হৃদয় ও রতনের ছেলে সালাম মিলে পলাশকে নির্জন স্থানে নিয়ে দেন দরবার শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়,ইয়াবা ব্যবসায়ী পলাশের কাছে তারা ৪০ হাজার টাকা দাবী করে কিন্তু ঘন্টা পার হয়ে গেলেও কোন সুরাহা হচ্ছিল না। পুলিশকে জানালে সিন্ডিকেটটি পরে সমস্যা করতে পারে এই ভয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানাতে ভয় পাচ্ছিল। পরে ঘটনা জেনে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা বিষয়টি শ্রীনগর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। তার আগেই পলাশের মোবাইল ফোনটি সালেপুর গ্রামের দিনু হাওলাদারের ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী স্বপন কেড়ে নেয় ।
শ্রীনগর থানার এসআই রিপন ও শফিকুল ইসলাম বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে আসলে পলাশকে ৪ পিস ইয়াবা সহ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অপর একটি সূত্র জানায়, মূলত ইয়াবা ব্যবসায় বনিবনা না হওয়ায় তাকে তারই সিন্ডেকেটের সদস্যরা ধরিয়ে দিয়েছে। বখাটে রাসেলের নেতৃত্বে গড়ে উঠা চান্দারটেক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সিন্ডিকেট বালুবাহী ট্রাক থেকে চাদা আদায়,ছিনতাই, অপরিচিত লোকজনকে ফাপর দিয়ে অর্থ আদায়ের সাথে জড়িত।
এব্যাপারে রাসেল জানায়, তারা ইয়াবা রাখেননি। পলাশই ইয়াবা পানিতে ফেলে দিয়েছে,আর তার সাথে গাজা থাকায় স্থানীয়রা মনে করেছে ইয়াবার পরিমান অনেক।
শ্রীনগর থানার ওসি(তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, ৪ পিস ইয়াবা সহ পলাশের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। বাকী ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে।
