সিংগাইরে ১৩টি অসহায় পরিবারকে ১৩ লাখ টাকা সহায়তা দিল সাত্তার ফাউন্ডেশন

মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস, সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি: জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত শিশু থেকে প্রবীণ-অসহায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ে ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘদিন ধরে নীরবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে সাত্তার ফাউন্ডেশন। ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি মানবসেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইরের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ সাত্তার খান। প্রচারবিমুখ এ গুণী ব্যক্তির প্রতিষ্ঠিত সাত্তার ফাউন্ডেশন সিংগাইর, হরিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। প্রতি মাসেই ক্যান্সার, কিডনি, লিভার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী অসচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকা করে সহায়তা দেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে ১৩ জন অসহায় পরিবারের তালিকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় উপজেলার রামনগর এলাকায় ইদ্রিস আলীর বাড়িতে আয়োজিত সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সাত্তার গ্রুপ অব কোম্পানির কর্ণধার আলহাজ্ব এম.এ সাত্তার খান উপকারভোগীদের হাতে এ অনুদান তুলে দেন। এ সময় প্রত্যেক উপকারভোগীদের ১ লাখ টাকা করে মোট ১৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
এ সময় সাত্তার খান বলেন, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। সামর্থ্যের মধ্যে থেকে অসচ্ছল ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও সাত্তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
অনুদানপ্রাপ্ত মাসুদ ও রশিদা দম্পতি জানান, তাদের সাত বছর বয়সী ছেলে রকিবুল হাসান জন্মগত হৃদরোগসহ জটিল রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসায় প্রায় সাত লাখ টাকা প্রয়োজন, যা স্বল্প আয়ের এ পরিবারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব। এমন অবস্থায় সাত্তার ফাউন্ডেশনের এক লাখ টাকার অনুদান তাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা বলেন, এই অর্থ চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময় সাত্তার খান ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন তারা। সিংগাইর বাসস্ট্যান্ডে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো.তৌহিদুর রহমান তুহিন বলেন,আগুনে পুড়ে আমি সর্বশ হারিয়েছি। সাত্তার স্যারের এক লাখ অনুদানে ব্যবসা করে আবার হয়তো ঘুরে দাড়াতে পারব। এ সময় সাত্তার ফাউন্ডেশনের কর্নধারের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিরু, মানিকগঞ্জ জেলা সদর ইউনিয়নের যুব দলের আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, সাত্তার ফাউন্ডেশনের স্বেচ্চাসেবক কর্মী মো. জাফর আলী ও শিপন মাহমুদ, স্থানীয় ইদ্রিস আলীসহ সংবাদকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, প্রচারের আড়ালে থেকেও আলহাজ্ব এম.এ সাত্তার খান দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে নীরবে অবদান রেখে চলেছেন। তাদের মতে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের বিত্তবানদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *