দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি. নিজে খুব বেশি দুর লেখাপড়া করতে পারেনি। তবুও তিনি শিক্ষা প্রেমি! অর্থের অভাবে কেউ লেখাপড়া করতে পারবেনা এটা সে হতে দেন না। এরকই এক শিক্ষা প্রেমি আতাউর রহমান। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ছোট গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাসার পাশেই “গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়” বিদ্যালয়টি কেবল মাত্র হাটি হাটি পা পা করে আট বছর হলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এলাকার গরীব ও অসহার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান এই শিক্ষা প্রেমি আতাউর রহমান। অল্প দিনেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারশ’র উপরে। দাঁড়াবেই না কেন, এখানে শিক্ষায় জন্য ব্যাপক উৎসাহিত করা হয় শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়টিতে নতুন বছরে ভর্তি হলেই শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, নতুন জুতা, বই খাতা-কলম সহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ। এবং অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের বেতন, পড়ালেখার খরচ সহ নানা সমস্যার সমাধান করে থাকেন ঐ শিক্ষা প্রেমি আতাউর রহমান। এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতেই তিনি নিজ উদ্যোগে এসব করছেন বলে জানা যায়। গতকাল মঙ্গলবার ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিদ্যালয় সভা কক্ষে এক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের দাতা সদস্য আতাউর রহমান তার নিজস্ব অর্থায়নে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৮০ জন নতুন ভর্তি শিক্ষার্থীর মাঝে এসব বিতরণ করেন।
এ সময় আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয় শুরুকালীন সময় থেকে আমি নতুন ভর্তি শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেসসহ অন্যান্য উপকরন দিয়ে আসছি। টাকার অভাবে যারা পড়াশোনা করতে পারে না তাদেরকে বেতন দিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগও করে দিচ্ছি যাতে করে কোন শিক্ষার্থী যেন ঝড়ে পড়ে না যায়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা ভাল লেখা পড়া করে স্কুলের মান উজ্জ্বল করবে। তোমাদের আচার ব্যবহার দেখে যেন সবাই প্রশংসা করে। সে দিকে খেয়াল করে চলতে হবে। তিনি বলেন, মানুষ গড়ার প্রধান কারিগড় হলো অভিভাবরা। অভিভাবকরা সচেতন হলে শিক্ষার্থীরা কখনও ভুল করবে না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শশাঙ্ক ভূষন পাল চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হাবিবুর রহমান, নরেশ সরকার, প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ হালদার। উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ও অভিভাবকবৃন্দ।
