মো.নাজমুল হোসেন: ময়মন্দির শেখ স্বপন (৫৫) পিতা মৃত কুরবান আলী। দীর্ঘদিন অসুস্থ্য থাকার পর মারা যায় তার স্ত্রী। দুই ছেলেকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। বড় ছেলে শেখ শওকত, ছোট ছেলে শেখ সাজু। বড়ছেলে শওকত লাইটিংয়ের কাজ করে। স্বপন মূলত একজন সবজি বিক্রেতা। তিনি ধাপারী বাজারে সবজি বিক্রি করেন। অভাবের সংসার হলেও সৎ ব্যাক্তি হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত। এর আগে তিনি ৩০ বছর ইছামতী নদীতে ইঞ্জিন চালিত (বোট) চালাইতেন।
কিন্তু গত ৫-৬ বছর আগে ইঞ্জিন চালিত (বোট) চালানো ছেড়ে সবজি বিক্রিই প্রধান পেশা বেছে নেন। স্বপন জানায় ৩-৪ মাস আগে আমি উপজেলার চন্দ্রখোলা এলাকায় একটি টাচ মোবাইলন পেয়েছিলাম। পরে ওই এলাকার মোবাইল মালিককে বুঝিয়ে দেই। স্বপনের সততায় মুগ্ধ হয়ে ময়মন্দি অগ্রদূত যুব সংঘের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, স্বপন ভাই আমাদের গ্রামের একজন গর্ব। তিনি একজন সৎ লোক, যার প্রমান তিনি ইতিপূর্বেও দিয়েছেন আজ তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে সবজি বিক্রি করেন। আমি তার নিয়মিত কাস্টমার। তার এই সৎকাজ আমাদের গ্রাম ও ক্লাবের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। আমরা তাকে স্যালোট জানাই। ময়মন্দি অগ্রদূত যুব সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সপ্তাহে একদিন বাজার করি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ধাপারি বাজারে গেলে স্বপন ভাই আমাকে জানায় আমি একটা মানি ব্যাগ পেয়েছি। সেখানে কিছু টাকা আছে। আমি মানি ব্যাগটি ফেরৎ দিতে চাই। পরে আমরা তাকে বলি মানিব্যাগ নিয়ে বিকালে ক্লাবে আসেন।
পরে যেভাবেই হোক মানিব্যাগের আসল মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়। স্বপন ভাই আমাদের সিনিয়র। তাকে আমরা সম্মান করতাম কিন্তু আজ তিনি যে কাজটি করেছেন আমরা সত্যি অবাক হয়েছি। তিনি আরোও বলেন, একজন হত দরিদ্র মানুষ হয়েও তার লোভকে সামলিয়ে প্রকৃত মালিকের হাতে মানিব্যাগটি পৌঁছে দিয়েছেন এটা আমাদের এলাকার জন্য সম্মানের।
শেখ স্বপনের চাচা লাল মিয়া বলেন, আমাদের বংশে কেউ ল হারানো জিনিস পেয়ে ভোগ করেনি। যদি সম্ভব হয়েছে প্রকৃত মালিককে পৌছে দিয়েছি অথবা মসজিদ, কিংবা গরীব মানুষকে দান করে দেই। স্বপনের ছেলে শওকত বলেন, আমি আমার বাবাকে নিয়ে গর্বিত। আমার বাবা গরিব হতে পারে কিন্তু তার এই সৎ কাজ আমাকে উৎসাহ দেয়।
এব্যাপারে মানিব্যাগের মালিক নববাংলা পত্রিকার সম্পাদক আতাউর রহমান সানী বলেন, আমি তো ভেবে ছিলাম মানিব্যাগটি আর পাবো না। কিন্তু স্বপন ভাইয়ের মত ভালো মানুষ দুনিয়ায় আছে বিধায় মানিব্যাগটি ফেরত পেলাম। একজন সবজি বিক্রেতা এতোটা সৎ হতে পারে তাকে না দেখলে জানতাম না। নববাংলা পত্রিকার পক্ষ হতে আমি তাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই।
