বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হলেন মো. মাহবুবুর রহমান

 নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জেলা পরিষদের নির্বাচনে তিন জন প্রার্থীদের মধ্যে দুই জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহাবুবুর রহমান। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ঘোষণার বাকি।
ঢাকা জেলা পরিষদ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহাবুবুর রহমান ২০১৬ সালের প্রথম নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
মো. মাহবুবুর রহমান মোঠে ফোনে জানান, প্রথমেই মহান আল্লাহ পাকের দরবারে শুকরিয়া জানাচ্ছি। আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী কন্যা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা জেলা বাসীকে এবং এ বিজয় আমার নয় এ বিজয় শেখ হাসিনার। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় আমাকে ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দিয়েছেন। কারণ বর্তমান সরকারের সময়ে ঢাকা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ঢাকা জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলা পরিষদের দায়িত্ব পাওয়ার পর সততার সাথে জেলা পরিষদের অর্থায়নে সমগ্র ঢাকা জেলায় উন্নয়ন করেছি। এবার ইনশা আল্লাহ অসমাপ্ত কাজ গুলো সমাপ্ত করতে পারবো।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহাবুবুর রহমান, ৭৫ পরবর্তী ছাত্রলীগের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। এছাড়া নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মো. মাহাবুবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

প্রসঙ্গত, জেলা পরিষদ নির্বাচন আইনানুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার অধীনে যতগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোর সদস্যরাই জেলা পরিষদ সদস্যদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতেন। অর্থাৎ সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়র এবং কাউন্সিলররা বা সদস্যরা ভোট দিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত করতেন।
সংশোধিত আইনে জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলার সংখ্যার সমান। আর নারী সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলা চেয়ারম্যানদের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ একেক জেলা পরিষদের সদস্যের সংখ্যা হবে একেক রকম, সংশোধনের আগে যেটা ২১ জন নির্দিষ্ট করে দেয়া ছিল। সেই হিসাবে ঢাকা ঢাকা পরিষদে চেয়ারম্যান ছাড়া ৫ জন পুরুষ সদস্য এবং দুইজন নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন।
সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার অন্তর্গত সকল জনপ্রতিনিধি এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনপ্রতিনিধিরা চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন করবেন।
গত ২৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ নির্বাচনের এ তফসিল ঘোষণা দেন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ২৬ সেপ্টেম্বর। আগামী ১৭ অক্টোবর ৬১ টি জেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *