নতুন প্রজন্মই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতি‌বেদকঃ  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জয় বাংলা স্লোগান ছিলো মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অস্ত্র। আমরা পাকিস্তান আর্মির হৃৎকম্প উঠিয়েছিলাম আমাদের জয়বাংলা স্লোগান দিয়েই। আমাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিলো না, ছিলো একটি স্লোগান ‘জয় বাংলা’। জয় বাংলা স্লোগান শুনলেই দালালরা ভয়ে পালাতো।
শনিবার বিকাল ৫টায় ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর পদ্মা কলেজের মাঠে পদ্মা সরকা‌রি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলমের সভাপতিত্ব করেন।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো। আর তখনই এই অশুভ শক্তি, পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা তাকে হত্যা করে, উন্নয়ন প্রক্রিয়ার গতি রোধ করতে চেষ্টা করেছিলো।  আজ ঘরে বসে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমাদের সন্তানেরা পড়াশোনা করছে। কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে অপব্যবহার সম্পর্কে।  নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের দেখলেই আমি কথা বলেছি। এই দেশকে তাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে। তখন আমরা মুক্তিযোদ্ধারা নিশ্চিন্তে মৃত্যুবরণ করতে পারব যে, আমাদের নতুন প্রজন্ম আমাদের দেশটাকে সমুন্নত রাখতে পারবে।
আমরা এই বিশ্বাস নিয়ে মরতে পারবো। এই নতুন প্রজন্মই আমাদের বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশের জন্য ৩০ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাতবরণ করেছিলেন। সেই রক্তের কে হিন্দু, কে মুসলমান, খ্রিস্টান তা আমরা জানি না। আমরা জানি রক্তরঞ্জিত বাংলাদেশে আমরা সবাই এক জাতি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জয় বাংলা স্লোগানটি জাতীয় স্লোগানে পরিণত করেছি।  এই এলাকার সংসদ সদস্য আমাদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব সালমান এফ রহমান এই স্লোগানকে রাষ্ট্রীয় স্লোগানে পরিণত করেছেন, তাকে ধন্যবাদ জানাই।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদ্মা সরকা‌রি কলেজের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেলারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. এ আর খান। তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্য বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়াতে হবে। পদ্মা কলেজকে ভালো মানুষ গড়ার ও সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণের কারিগর হতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি নিবন্ধন অধিদফতরের সাবেক  মহা-পরিচালক  ড.খান মো.আব্দুল মান্নান, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সরদার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আফসারুজ্জামান খান,  শিক্ষানুরাগী কলেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাইদুর রহমান (খোকা), জাহাঙ্গীর আলম আখন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মোন্নাফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রউফ, দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, অ্যাডভোকেট এ.কে.এম আজিজুর রহমান (বাবুল),  অধ্যাপক এম.এ হান্নান খান, এম.এ.রহিম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *