ফিলিস্তিনের উপর ইসরাইলের আক্রমন কেনো ?

প্রসঙ্গ- শিশু :
ফিলিস্তিনির উপর ইসরায়েলের যে বর্বরচিত হামলা যা মানবতার চরম ন্যাক্কারজনক অধ্যায়। এই আক্রমনের যে লেলিহান শিখার আচঁ যে কোমলমতি শিশুদের উপর পরেছে তা বিভিন্নভাবে আমরা অবলোকন করেছি। কিন্তু কেনো ?
আমরা কি শিশু ছিলাম না, আমরা কি শৈশব স্বপ্ন দেখিনি, আমরা হাসতে শিখেছি শিশুকাল থেকে, ভালোবাসতে শিখেছি এই শিশুকাল থেকে, তাহলে সেখান থেকে আমরা শব্দ শিখেছি, বাক্য শিখেছি সেখানে কুঠারাঘাত কেনো ?

আজ আমাদের নীতিনৈতিকতায় ঘুন ধরে গেছে। স্খলন ঘটেছে মনুষ্যত্যর, হিংসা দাবানলে আজ আমরা জ্ঞ্যান শূন্য। আজ পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্র, ধর্ম বা জাতি শিশুদের বিপক্ষে কোনো নীতি গ্রহণ করেনি। পৃথিবীর প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের কে পজিটিভভাবে গ্রহণ করা হত।
১ম বিশ্ব যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার পর লীগ অব নেশনস্ গঠিত হয়। মূলত: যার প্রধান কাজ শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। জাতিগত বা রাষ্ট্রের মধ্যে যদি নিপীড়ন, নির্যাতন চলতে থাকে তাহলে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তার সমাধান করা কিন্তু লীগ অব নেশনস্ এর ব্যর্থতার কারণে ২য় বিশ্ব যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

জাতিসমূহ বুঝতে পারে যে, মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতার ব্যাপারটা এখন আর শুধু রাষ্ট্রের ইচ্ছার উপর ছেড়ে রাখা চলে না। বিশ্বে প্রকৃত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন বিশে^র মানব গোষ্ঠীসমূহের অধিকার সংরক্ষণ। এরই ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠা পাই। জাতিসংঘ প্রত্যেক রাষ্ট্রের মধ্যে যেমন সরকার বিদ্যমান তেমনি জাতিসংঘকে বিশ্বে ও সরকার হিসেবে মনে করা যেতে পারে। প্রথম থেকেই জাতিসংঘ শিশুদের অধিকার রক্ষার ব্যপারে বেশ সোচ্চার। ১৯২৮ সালের ২৬ শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন লীগ অব নেশনস্ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রথম শিশুদের অধিকারের উপর শিশু অধিকার সংক্রান্ত জেনেভা ঘোষণা নামে একটি ঘোষণা প্রদান করে। ১৯৪৫ সালের ২ রা অক্টোবর জাতিসংঘ গঠিত হওয়ার পর ১৯৪৬ সালে শিশু অধিকার সংক্রান্ত জেনেভা ঘোষণাকে পূর্ণজীবিত করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৮৯ সালে সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের চূড়ান্ত খসরা উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ৬১ টি রাষ্ট্র তাতে সাক্ষর প্রদান করে। ১৯৯০ সালের ২রা সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ কার্যকর হয়।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭৮ সালের ১৪ ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ জরুরি এবং যুদ্ধকালীন সময়ে নারী ও শিশুদের রক্ষাকল্পে ৩৩১৮ নং সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আরও একটি ঘোষণা প্রদান করে।

এত ঢাক ঢোল পিটিয়ে শিশুদের জন্য যখন এত কিছু! তখন শিশুরা কেনো সুরক্ষিত নয়। আজ শিশুদের বিশেষ করে ফিলিস্তিনি শিশুদের চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আর আমরা বিশ্ববাসী সবাই তাকিয়ে দেখছি। এখানে কি জাতি সংঘের কিছুই করার নেই। নাকি জাতিসংঘ কোনো বৃহৎ শক্তি দ্বারা প্রবাহিত।

এখন প্রশ্ন আসে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ শুধুই কি একটি ঘোষণা নাকি এর কোনো বাধ্যকরণ শক্তি আছে। বাধ্যকরণ শক্তি যদি নাও থাকে তবে প্রতিবাদতো করা যেতে পারে।

ফিলিস্তিনি শিশুদের উপর ইসরায়েল কর্তৃক যে নিষ্ঠুর নিপীড়ন, অত্যাচার করা হয়েছে তা আজ বিশ্ববাসী অবলোকন করেছে কিন্তু শিশু অধিকার সনদের ভিওিতে জাতিসংঘকে তেমন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। জাতিসংঘ আজ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
সমগ্র বিশ্বের শিশু আজ নিরাপদ ও সুরক্ষায় থাকুক এই হোক আমাদের ব্রত।

– লেখক : অ্যাড. কাজী মনিরুল ইসলাম (রাজা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *