তানজিম ইসলাম: জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ও শিক্ষক, শিক্ষিকা, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা, কর্মচারী বাছাই কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মাদ ফেরদৌস খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ২০১৭ সালের ৫ই মার্চ দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে যোগ দেন আফরোজা আক্তার রিবা। দোহার উপজেলায় প্রথম কোনো নারী কর্মকর্তা এই পদে যোগদান করেছিলেন।
শিক্ষা জীবনে তিনি নরসিংদীর হাড়িসাংগার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এসএসসি, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে ২০০২ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। পড়াশোনা শেষ করে ২৯তম বিসিএস-এর মাধ্যমে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। দোহারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০ মাস এবং ধানমন্ডি রাজস্ব সার্কেলে ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

জানা যায়, তিনি দোহারে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে উপজেলার প্রশাসনিক চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। সকল কাজ সুষ্ঠু তত্ত্বাবধান ও উপজেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছেন তিনি। দোহারে যোগদানের পর তিনি মেধাববৃত্তি, শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ড ফুটবল টূর্নামেন্ট চালু করেন। বাল্যবিয়ে বন্ধ, মেয়েদের যৌন নির্যাতন বন্ধ, মাদকসেবীদের ভ্রাম্যমাণ দ-সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ে উপজেলাবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। তারই একান্ত প্রচেষ্টায় দোহারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েরা এবার জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত নদীতে টহল, জাটকা ইলিশ নিধন রোধ, জেলেদের বিভিন্ন দন্ড ও মাছ শিকারী সিন্ডিকেট উৎখাতে তিনি অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। তার উদ্যোগে দোহার ঘাটা এলাকায় ১২ দিনের শিশু তার মাকে ফিরে পায়। নদীভাঙন কবলিত পরিবারের পাশেও ছিলেন তিনি। আশ্রায়ণ প্রকল্পে নিয়মিত সহায়তা প্রদান, শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা পদক্ষেপেও তার ভূমিকা অপরিসীম। অনেক গৃহহীনকে গৃহ দেয়া। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায়, কুসুমহাটি ইউনিয়নকে ভিক্ষুক মুক্ত করা, সেই সাথে সেখানকরা ভিক্ষুকদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাজ।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দোহারে যোগদানের পর থেকেই উপজেলাবাসীর সহযোগিতা পেয়েছি। সব কর্মকা-ে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া স্থানীয় সাংসদ সালমান এফ রহমান স্যারসহ সকলের সহযোগিতা পেয়েছি। এ জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি ১৫টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছি। ৩০০ শতাধিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীসহ অনেকে অপরাধীদের শাস্তি প্রদান করেছি। উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুজিব কর্নার প্রতিষ্ঠার সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যার কার্যক্রম আগামী মুজিবর্ষেই শুরু হয়ে যাবে। সরকারের ইশতেহারগুলোকে বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করে যাচ্ছি।
সম্প্রতি এসিল্যান্ড আর আমি রাতে ঘুরে ঘুরে অসহায় শীতার্তদের খুঁজে খুঁজে তাদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছি। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, প্রশাসনিক গন্ডির বাইরেও একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি সবসময়।
